,

বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাম চাঁদাবাজ-দখলদারদের তালিকায়: ডিএমপি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চাঁদাবাজ ও দখলদারদের একটি তালিকায় বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও জমি-সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে তৈরি ওই তালিকায় মোট ১ হাজার ৫৩০ জনের নাম রয়েছে বলে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৭৮ জনকে অপরাধের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৩০ জন বিএনপি অথবা দলটির অঙ্গসংগঠনের বর্তমান কিংবা সাবেক নেতাকর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই তালিকায় মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত ১ হাজার ২৫২ জনের মধ্যে অন্তত ৩৫০ জন বিএনপি বা দলটির অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে নিউ এজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত চক্রগুলোর মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তালিকায় কারও নাম থাকা বা পুলিশের কোনো অভিযোগের উল্লেখ থাকা আদালতে অপরাধ প্রমাণের সমতুল্য নয়। ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা।

বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রতিবেদনে রাজধানীর বিস্তৃত একটি অর্থনৈতিক পরিসরে চাঁদাবাজির অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ফুটপাত, কাঁচাবাজার, মাছের পাইকারি বাজার, শপিং সেন্টার, হোটেল, পরিবহন কাউন্টার, সিএনজি স্ট্যান্ড, অটোরিকশার গ্যারেজ, অবৈধ পার্কিং এলাকা, অ্যাম্বুলেন্স, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল—বিভিন্ন জায়গায় অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ তালিকায় বস্তি এলাকাও রয়েছে। অর্থাৎ চাঁদাবাজির অভিযোগ শুধু বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা পরিবহনকেন্দ্রিক এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকার কথা বলা হয়নি; নগরীর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এর বিস্তারের কথা উঠে এসেছে।

রাজধানীর বাজার, পরিবহন ও ফুটপাতকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ শোনা যায়। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক, ক্ষুদ্র বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। একই সঙ্গে কোনো এলাকায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ তৈরি হলে সেখানে স্বাভাবিক ব্যবসা ও জনসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

বিএনপির নেতাদের বক্তব্য

ডিএমপির তালিকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেন, এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আমানউল্লাহ আমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউ এজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তারা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত ছয়জন নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। তাঁদের মধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়। তবে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান এবং এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

চাঁদাবাজি ও দখলকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। হামলা, লুটপাট, জমি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএমপির কথিত তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের নামের উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে পুলিশের কাছে থাকা এমন তালিকার ভিত্তিতে অভিযোগ যাচাই, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং তদন্তের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, রাজনৈতিক পরিচয় বা স্থানীয় প্রভাবের কারণে কোনো অভিযোগ যদি যথাযথভাবে তদন্তের বাইরে থেকে যায়, তাহলে একই ধরনের কর্মকাণ্ড পুনরায় ঘটার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে ডিএমপির তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রমাণ এক নয়। ফলে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে পৃথকভাবে অভিযোগ যাচাই এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করাই হবে চূড়ান্ত বিষয়। সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও পরবর্তী তদন্তের ফলও এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে গুরুত্বপূর্ণ।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।