ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে টানা দ্বিতীয় হারের মুখ দেখল বাংলাদেশ ফুটবল দল। মালয়েশিয়ার কাছে তিন গোলে হারের পর এবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও ১-০ ব্যবধানে হেরেছে জামাল ভূঁইয়ার দল। ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাংলাদেশের বিদায়ের শঙ্কা আরও বেড়েছে।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটিতে শুরু থেকেই নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। একাদশে চারটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে দলটি। জামাল ভূঁইয়া, জিদান ইউসুফ, সুকি ও মোরসালিনকে শুরু থেকে খেলানো হয়। তাদের জায়গা হয়নি আগের ম্যাচের একাদশে থাকা সোহেল রানা, ফারহান আলি ওয়াহিদ, শাকিল আহাদ তপু ও ফাহমিদুল ইসলামের।
ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে বাংলাদেশের খেলায় ইতিবাচক কিছু আভাস দেখা যায়। সুকি ও রাকিব কয়েকবার বল নিয়ে সিঙ্গাপুরের রক্ষণভাগের দিকে এগিয়ে যান। তবে আক্রমণগুলো প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের কাছাকাছি গিয়ে কার্যকর রূপ পায়নি। শেষ মুহূর্তের পাসে ভুল এবং আক্রমণভাগের সমন্বয়ের ঘাটতিতে গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।
প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল গোলমুখে আক্রমণের কার্যকর সমাপ্তি। পুরো ৪৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা। বিপরীতে শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণে গতি বাড়াতে থাকে সিঙ্গাপুর।
৩৬তম মিনিটে সেই চাপ থেকেই আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। মাঠের বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলে সিঙ্গাপুর। ক্রস থেকে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে স্টেয়ার্ট শট নেন। তার নেওয়া শট বাংলাদেশের জালে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের পক্ষে বলটি ঠেকানোর সুযোগ ছিল না।
গোল হজমের পরও প্রথমার্ধে বাংলাদেশ আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। এক গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় জামাল ভূঁইয়াদের।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য সমতা ফেরানোর চেষ্টা আরও জোরদার করে বাংলাদেশ। আক্রমণ বাড়িয়ে সিঙ্গাপুরের রক্ষণে চাপ তৈরি করার চেষ্টা চলে। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেদ করে পরিষ্কার গোলের সুযোগ বের করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধানই ধরে রাখে সিঙ্গাপুর।
এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে তিন গোল হজম করার পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তুলনামূলক কম ব্যবধানে হারলেও পয়েন্টের দিক থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। টানা দুই পরাজয়ে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের অবস্থান কঠিন হয়ে পড়েছে।
দলের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বল নিয়ে কয়েকবার প্রতিপক্ষের সীমানায় পৌঁছালেও শেষ পাস, শট নেওয়া এবং আক্রমণ শেষ করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ধার দেখা যায়নি। ফলে ম্যাচের বড় সময় বল দখল বা আক্রমণের চেষ্টা থাকলেও স্কোরবোর্ডে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
এখন গ্রুপ পর্বে টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশের সামনে পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়োজন। প্রথম দুই ম্যাচে পাওয়া ফল তাদের অবস্থানকে কঠিন করে তুলেছে। গ্রুপের সমীকরণ এবং বাকি ম্যাচগুলোর ফলের ওপরও বাংলাদেশের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।








