নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেয়ারা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলার ঢেলাপীর উত্তরা আবাসন প্রকল্প এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিশুটির মা সৈয়দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় শিশুটি তাদের কোয়ার্টারের সামনে খেলছিল। এ সময় একই এলাকার ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোর তাকে পেয়ারা খাওয়ানোর কথা বলে কাছাকাছি একটি ভবনের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার মা।
ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে আসে। পরে গোসল করানোর সময় তার শরীরে অস্বাভাবিকতা দেখতে পান মা। বিষয়টি জানতে চাইলে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা মাকে জানায়। এরপর শিশুটির মা ঘটনাস্থলের আশপাশে গিয়ে কয়েকজন শিশু-কিশোরের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের কাছ থেকেও অভিযুক্ত কিশোরের আচরণ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরে অভিযুক্ত কিশোরও ঘটনার কথা স্বীকার করে। তবে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং অভিযোগের সব দিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি পুলিশের ওপর নির্ভর করছে।
শিশুটির মা জানান, ঘটনার পর শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে শিশুটি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। অল্প বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় পরিবারটির মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা জানান, শিশুটির মা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুটির চিকিৎসার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
শিশু নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অভিযোগের প্রতিটি দিক যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে এবং অভিযোগের তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।








