কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মাহিমা আক্তার মাহি ও তানিশা আক্তার নামে দুই কিশোরী শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে।
নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের জুগিরকান্দি গ্রামে। তারা দুজনই কাশিনগর আল আমিন মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহিমা ও তার সহপাঠী তানিশা মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে পরিচিতজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিতে শুরু করেন। পরে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় বিভিন্ন জায়গায় তাদের সন্ধান করা হয়। তবে কোথাও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
দিন গড়িয়ে রাত হলেও দুই কিশোরী বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে। পরদিনগুলোতেও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালানো হয়। কিন্তু চার দিনেও তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় মাহিমা আক্তার মাহির মা তাছলিমা আক্তার বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। রোববার বিকেলে জিডি করার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চাওয়া হয়। একই দিন সন্ধ্যায় দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
তাছলিমা আক্তার বলেন, মাহি তার সহপাঠী তানিশার সঙ্গে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য অনেক জায়গায় খোঁজ করা হয়েছে, কিন্তু কোনো তথ্য মেলেনি। তিনি প্রশাসনের সহায়তায় দ্রুত মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
তানিশার পরিবারও একইভাবে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। দুই শিক্ষার্থী একসঙ্গে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাদের নিরাপদ অবস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
কাশিনগর আল আমিন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার দুই শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়নি। পরে তাদের পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারেন, মাদ্রাসায় আসার পথেই তারা নিখোঁজ হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে রোববার বিকেলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তাদের সন্ধানে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে এবং উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দুই কিশোরীর নিখোঁজের ঘটনায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় দ্রুত অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্বজনেরা। পুলিশের পক্ষ থেকেও তাদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।









