,

পুলিশ লাইনসের পাশে সরকারি দপ্তরে চুরি

শরীয়তপুর জেলা পুলিশ লাইনসের পাশেই জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। কার্যালয়ের পাঁচটি তালা ভেঙে তিনটি কক্ষে ঢুকে একটি ল্যাপটপ, তিনটি ট্যাব ও একটি মুঠোফোন নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় চারটি স্টিলের আলমারির ড্রয়ারও খোলা পাওয়া যায়। তবে কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথিপত্র তছনছ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

শরীয়তপুর পৌরসভার ধানুকা এলাকায় মাদারীপুর–শরীয়তপুর সড়কের পাশে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়টির অবস্থান। ভবনটি জেলা পুলিশ লাইনসের কাছাকাছি হওয়ায় সরকারি দপ্তরটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয় থেকে চলে যান। এরপর শনিবার সন্ধ্যার কোনো এক সময় চুরির ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দিন কার্যালয় বন্ধ থাকার পর শনিবার সন্ধ্যায় অফিস সহকারী বোরহান হাওলাদার দাপ্তরিক কাজে সেখানে যান। তিনি গিয়ে কার্যালয়ের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান।

পরে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান তিনি। খবর পেয়ে কর্মকর্তারা কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ও মালামাল যাচাই করেন।

যাচাইয়ের পর দেখা যায়, তিনটি কক্ষের পাঁচটি তালা ভাঙা হয়েছে। এসব কক্ষ থেকে একটি ল্যাপটপ, তিনটি ট্যাব এবং একটি মুঠোফোন চুরি হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি স্টিলের আলমারির ড্রয়ার খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে সেগুলো থেকে কোনো নথিপত্র বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুদ মামুন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় অফিস সহকারী বোরহান হাওলাদার তাঁকে ফোন করে তিনটি কক্ষের তালা ভাঙার কথা জানান। পরে কার্যালয়ে গিয়ে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো নথিপত্র তছনছ করা হয়নি।

চুরির ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে কার্যালয় ও ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবনের বাইরে এবং ভেতরের বিভিন্ন ফ্লোরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। ফলে চুরির সময় ভবনে কারা প্রবেশ করেছে বা বের হয়েছে, ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করার সুযোগ নেই।

মাসুদ মামুন জানান, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। চুরির ঘটনা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, চুরির ঘটনায় কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা হলে ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি অফিসে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব ও মুঠোফোনের মতো সরঞ্জামে দাপ্তরিক কাজের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের নথি ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় এসব যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। ফলে চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধারের পাশাপাশি সেগুলোতে থাকা দাপ্তরিক তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

পুলিশ লাইনসের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছাকাছি একটি সরকারি কার্যালয়ে তালা ভেঙে চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে এসেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল থাকার বিষয়টি তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।