ঢাকার ঘরোয়া ক্রিকেটে তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে এবার নতুন আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তৃতীয় বিভাগ বাছাই টুর্নামেন্ট। ৭০টি দলকে নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় এবার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে খেলার ধরনে। ওয়ানডে সংস্করণের বদলে এবার থেকে বাছাইপর্বের ম্যাচ হবে টি-টোয়েন্টিতে। লাল বলের পরিবর্তে ব্যবহার করা হবে সাদা বল।
শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন করা হয়েছে। বিসিবির বিভিন্ন কার্যক্রমে উদ্বোধনী আয়োজনকে কিছুটা বর্ণিল করার চেষ্টা দেখা যায়। তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়েও এবার সেই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিযোগিতার কাঠামোগত পরিবর্তন। নতুন ফরম্যাটে খেলা এবং তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করাই এবারের আয়োজনের অন্যতম দিক।
আগের আসরগুলোতে বাছাই টুর্নামেন্ট ওয়ানডে সংস্করণে অনুষ্ঠিত হতো। এবার টি-টোয়েন্টিতে যাওয়ার ফলে ক্রিকেটারদের সামনে নিজেদের দক্ষতা দেখানোর ধরনও বদলেছে। সীমিত ওভারের এই সংস্করণে অল্প সময়ে রান করা, বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং ফিল্ডিংয়ে দ্রুততার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে প্রতিটি ম্যাচেই ক্রিকেটারদের কার্যকর পারফরম্যান্স করার সুযোগ থাকছে।
এবার অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটারদের বয়সের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। টুর্নামেন্টে খেলতে হলে ক্রিকেটারদের বয়স ২৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। এই বয়সসীমার মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতার আওতায় আনা হয়েছে। বাছাইপর্ব থেকে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করে ভবিষ্যতের জন্য বিবেচনায় নেওয়াই বোর্ডের অন্যতম লক্ষ্য।
এই প্রক্রিয়ায় বয়সভিত্তিক ক্রিকেট দলের নির্বাচকদেরও যুক্ত করা হয়েছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচকদের মাঠে উপস্থিত থেকে ম্যাচ দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবেন নির্বাচকেরা। ভালো করা খেলোয়াড়দের বয়সভিত্তিক দলগুলোর জন্য বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এবারের প্রতিযোগিতার পরিসরও বড়। মোট ৭০টি দল এতে অংশ নিচ্ছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন মাঠে সব মিলিয়ে ১৫১টি ম্যাচ আয়োজন করা হবে। এত বিপুলসংখ্যক দল ও খেলোয়াড়কে নিয়ে টুর্নামেন্ট পরিচালনায় একাধিক মাঠ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রথম পর্বে ৭০টি দলকে ১৬টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ হবে লিগ পদ্ধতিতে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল পরবর্তী ধাপে জায়গা করে নেবে। ফলে গ্রুপ পর্ব শেষে মোট ৩২টি দল সেরা ৩২-এর পর্বে উঠবে।
সেরা ৩২ থেকে প্রতিযোগিতা চলে যাবে নকআউট পদ্ধতিতে। এই ধাপে ১৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ম্যাচের বিজয়ী দল পরবর্তী রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাবে। এরপর আটটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
কোয়ার্টার ফাইনালও হবে নকআউট পদ্ধতিতে। চার ম্যাচের বিজয়ী দল সেমিফাইনালে উঠবে। দুই সেমিফাইনালের জয়ী দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বে লিগ পদ্ধতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর শেষের দিকে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠবে সরাসরি টিকে থাকার লড়াই।
ঢাকা ক্রিকেট কমিটি অব মেট্রোপলিশ (সিসিডিএম) জানিয়েছে, ২৫ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পুরো বাছাই টুর্নামেন্ট শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। নতুন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট, বয়সসীমা এবং নির্বাচকদের সরাসরি মাঠে উপস্থিতির মাধ্যমে এবারের আয়োজনটি তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের নিচের স্তর থেকে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় খুঁজে বের করার প্রক্রিয়াকেও আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।









