ব্রাজিল জাতীয় দলের বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির নতুন উত্তরসূরি হচ্ছেন রাফিনিয়া। নেইমার জুনিয়রের আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হওয়ার পর বার্সেলোনার এই উইঙ্গারের গায়ে উঠছে ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে পরিচিত নম্বরগুলোর একটি। জাতীয় দলের পক্ষ থেকে রাফিনিয়াকে ১০ নম্বর জার্সি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
নেইমারের বিদায়ের পর ব্রাজিলের আক্রমণভাগে যে পরিবর্তনের আভাস মিলছিল, এই সিদ্ধান্ত সেটিকে আরও স্পষ্ট করল। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ১০ নম্বর জার্সির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন নেইমার। বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন তিনি।
ব্রাজিলের হয়ে নেইমারের অর্জনও বেশ সমৃদ্ধ। জাতীয় দলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করে তিনি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০২৩ সালে পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে এই জায়গা দখল করেন নেইমার। বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি তার ক্যারিয়ারে না থাকলেও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে ব্রাজিলের ইতিহাসে নিজের অবস্থান বেশ শক্তভাবেই প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।
এবার সেই ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি পরবেন রাফিনিয়া। ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে নিয়মিত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জাতীয় দলেও তার ভূমিকা বেড়েছে। গতি, আক্রমণে সরাসরি যাওয়ার প্রবণতা এবং গোলের সুযোগ তৈরির দক্ষতার কারণে তিনি ব্রাজিলের সামনের সারির অন্যতম পরিচিত মুখ।
তবে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সির গুরুত্ব শুধু সাম্প্রতিক সময়ের কারণে নয়। এই নম্বরের সঙ্গে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের বহু কিংবদন্তির নাম জড়িয়ে আছে। পেলে এই জার্সিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতীকী পরিচয়ে পরিণত করেছিলেন। পরে জিকো, রিভালদো ও রোনালদিনহোর মতো তারকারাও ১০ নম্বর পরে ব্রাজিলকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এই ঐতিহ্যের কারণেই রাফিনিয়ার হাতে ১০ নম্বর তুলে দেওয়ার বিষয়টি বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। এটি শুধু জার্সির নম্বর পরিবর্তন নয়; জাতীয় দলে তার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরও একটি প্রকাশ।
নেইমারের সঙ্গে রাফিনিয়ার তুলনা অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসবে। তবে দুজনের খেলার ধরন ও ক্যারিয়ার এক নয়। নেইমার দীর্ঘ সময় ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান সৃজনশীল শক্তি ছিলেন। রাফিনিয়ার সামনে বরং নিজের সামর্থ্য ও নিজস্ব স্টাইল দিয়ে নতুন পরিচয় গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর ব্রাজিল এখন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে। সেই পরিবর্তনের সময়ে রাফিনিয়ার গায়ে ১০ নম্বর জার্সি ওঠা তাকে দলের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়ে পরিণত করবে।
এই জার্সির সঙ্গে যেমন রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস, তেমনি রয়েছে প্রত্যাশার চাপও। ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে রাফিনিয়ার প্রতিটি পারফরম্যান্স এখন আগের চেয়ে বেশি নজরে থাকবে।
নেইমারের রেখে যাওয়া ইতিহাস বিশাল। সেটি পুনরাবৃত্তি করার দায়িত্ব রাফিনিয়ার নয়। তার সামনে বরং রয়েছে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিকে ঘিরে নিজের একটি নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ। মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে, সেই গল্প কোন পথে এগোয়।









