নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ একাধিক মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পুটিমারী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় উপপরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হোসেনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরদিন সকালে উদ্ধার করা হয়েছে হামলার সময় খোয়া যাওয়া হাতকড়াটিও।
ছিনিয়ে নেওয়া আসামির নাম মো. এসকেন শেখ (৪০)। তিনি পুটিমারী গ্রামের বাবলু শেখের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসকেনের বিরুদ্ধে একাধিক অস্ত্র ও মাদক মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। স্থানীয়ভাবে তাকে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নড়াগাতী থানার এসআই মুরাদ হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পুটিমারী বাজারে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মাদকসহ এসকেন শেখকে আটক করা হয়। পরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
এসকেন গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পুলিশের অভিযোগ, তার ভাই নয়ন শেখ ও সজল শেখ এবং বাবা বাবলু শেখের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা এসআই মুরাদ হোসেনকে ঘাড়, পিঠ ও হাতে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ এসকেন শেখকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনার পর নড়াগাতী থানায় খবর দেওয়া হলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।
পুলিশের অভিযোগে হামলায় আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। তারা হলেন এসকেনের মামাতো ভাই হৃদয় মোল্যা, প্রতিবেশী আল আমিন শেখ, সাবেক থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর মোল্যা, তাজু শেখ, শামীম শিকদার, হাফিজুর রহমান ও রাসেল শেখ। পুলিশ বলছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে হামলায় অংশ নেন। তবে ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ঘটনার পর পুটিমারী গ্রামে রাতভর অভিযান চালায় পুলিশ। এ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আল আমিন শেখের দুই ছেলে হামিন শেখ ও তামিম শেখ, সাইদ শেখের ছেলে সৌরভ শেখ এবং আমরোজ ফকিরের ছেলে জসিম ফকির।
এদিকে ঘটনার পর খোয়া যাওয়া পুলিশের হাতকড়াটিও উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে পুটিমারী ঈদগাহ ময়দানের গেটের সামনে থেকে কেটে ফেলা অবস্থায় হাতকড়াটি উদ্ধার করে পুলিশ। কীভাবে এবং কারা হাতকড়াটি কেটে সেখানে ফেলে রেখেছিল, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসেন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের খোয়া যাওয়া হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ছিনিয়ে নেওয়া এসকেন শেখকে পুনরায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের হেফাজত থেকে কোনো আসামিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় হামলার ধরন, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পলাতক আসামির অবস্থান—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে নির্ধারিত হবে।









