বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক লেনদেনের ওপর বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। ফলে প্রতিদিন ডলার, ইউরো, পাউন্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার দর জানতে আগ্রহ থাকে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, প্রবাসী ও বিদেশে অর্থ পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে।
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বাজারতথ্য অনুযায়ী, ডলারের দর কিছুটা কমে ১২২ টাকা ৭০ পয়সায় নেমেছে। তবে বিভিন্ন ব্যাংক ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত আন্তব্যাংক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, আগের কার্যদিবস ২০ সেপ্টেম্বর ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১২২ টাকা ৯০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। ওই দিনের ভারিত গড় হার ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা। একই সময়ে স্পট মার্কেটে লেনদেনভিত্তিক রেফারেন্স রেট ছিল ১২২ টাকা ৮৫৭৬ পয়সা।
এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ডলারের দর কিছুটা বাড়তির দিকে ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন দর ১২৩ টাকা ৫ পয়সায় উঠেছিল। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর তা কমে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার মধ্যে লেনদেন হয়।
চলতি বছরের জুলাইয়েও ডলারের দরে ওঠানামা দেখা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক অর্থনৈতিক সূচক অনুযায়ী, জুলাইয়ে ডলারের গড় রেফারেন্স হার ছিল ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা। মাস শেষে হার দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৮৮ পয়সায়।
আজকের বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার দর
প্রদত্ত বাজারতথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সর্বনিম্ন বিনিময় হার নিচে দেওয়া হলো—
| মুদ্রা | বাংলাদেশি টাকায় দর |
|---|---|
| ইউএস ডলার | ১২২ টাকা ৭০ পয়সা |
| ইউরো | ১৪০ টাকা ৮৯ পয়সা |
| পাউন্ড স্টার্লিং | ১৬৪ টাকা ৩৩ পয়সা |
| কানাডিয়ান ডলার | ৮৮ টাকা ৬৯ পয়সা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৭ টাকা ৩২ পয়সা |
| চীনা ইউয়ান | ১৮ টাকা ৩২ পয়সা |
| সিঙ্গাপুরি ডলার | ৯৬ টাকা ১২ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি | ১ টাকা ২৭ পয়সা |
| মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত | ৩০ টাকা ০৭ পয়সা |
| সৌদি রিয়াল | ৩২ টাকা ৬৬ পয়সা |
| কাতারি রিয়াল | ৩৩ টাকা ৫৮ পয়সা |
| কুয়েতি দিনার | ৩৯৭ টাকা ৯৪ পয়সা |
| সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম | ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা |
কেন বদলায় ডলারের দাম
বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের দাম নির্ধারণে চাহিদা ও সরবরাহ বড় ভূমিকা রাখে। আমদানির জন্য ডলারের চাহিদা বাড়লে দরের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। আবার রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লে সেই চাপ কিছুটা কমতে পারে।
ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য, আমদানি দায় পরিশোধ, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজার কার্যক্রম—সব মিলিয়েই বিনিময় হারের গতিপথ তৈরি হয়।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৫ কোটি ডলার কিনেছিল। প্রায় তিন মাস বিরতির পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই ডলার কেনার ঘটনা ঘটে। সে সময় বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক এবং আমদানি পরিশোধের চাপ কম থাকার বিষয়টি ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছিল।
আন্তব্যাংক বাজারের পরবর্তী তথ্যেও ডলারের দর কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা যায়। ১৭ সেপ্টেম্বর ২১টি চুক্তির মাধ্যমে মোট ৫ কোটি ৯১ লাখ ডলারের লেনদেন হয়েছিল। ওই দিনের ভারিত গড় হার ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা।
ব্যাংকভেদে রেট আলাদা হতে পারে
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত আন্তব্যাংক বা রেফারেন্স রেটকে সাধারণ গ্রাহকের জন্য সব ধরনের লেনদেনে প্রযোজ্য একক মূল্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নগদ মুদ্রা, রেমিট্যান্স, আমদানি-রপ্তানি এবং কার্ডভিত্তিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পৃথক বিনিময় হার নির্ধারণ করতে পারে।
এ ছাড়া ব্যাংক ও অনুমোদিত মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যেও পার্থক্য থাকতে পারে। ফলে বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচা বা অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ কার্যকর দর যাচাই করা প্রয়োজন।
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। তাই ২১ সেপ্টেম্বরের উল্লেখিত হারকে ওই দিনের বাজারচিত্র হিসেবে বিবেচনা করতে হবে; পরবর্তী সময়ে একই মুদ্রার দর ভিন্ন হতে পারে।









