যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে আগের কৌশল থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের সামরিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাবে নতুন অস্ত্র ও নতুন লক্ষ্যবস্তু ব্যবহার করা হতে পারে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। খবর আল আরাবিয়ার।
আইআরজিসির ওই মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক হামলা চালালে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পালটা হামলার কৌশলে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন’ আনা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ সংঘাতে এমন কিছু সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, যেগুলো এর আগে যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, ‘নতুন সক্ষমতার নতুন অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে আনা হবে, যা দেখে বিশ্ব অবাক হবে।’
তবে ঠিক কোন অস্ত্র বা সামরিক সক্ষমতার কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে সম্ভাব্য নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলায় যেসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছিল, ভবিষ্যতে সেগুলোই যে আবার লক্ষ্য করা হবে, এমন নয়। ইরানের কাছে এমন আরও কিছু লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে এখনো হামলা চালানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আক্রমণ করলে সেসব স্থাপনাও পালটা হামলার আওতায় আসতে পারে বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রস্তুতি ইরানের রয়েছে। এতে বোঝা যায়, তেহরান সম্ভাব্য নতুন সংঘাতকে কেবল সীমিত সময়ের সামরিক বিনিময় হিসেবে দেখছে না; দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। তবে সেই পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। সম্ভাব্য হামলার সময়, ধরন কিংবা লক্ষ্যবস্তু নিয়েও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা গত মাসের শেষ দিকে নতুন করে বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সরাসরি লড়াইয়ের মাত্রা কিছুটা কমলেও দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত চাপ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বরং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি এখনও স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই পালটাপালটি অবরোধ বজায় রেখেছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তাও দুই দেশের বিরোধের অন্যতম বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।
আইআরজিসির সর্বশেষ বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে ইরান আগের প্রতিক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি না করে আরও বিস্তৃত পরিসরে পালটা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রাখছে। তবে সম্ভাব্য নতুন অস্ত্র, লক্ষ্যবস্তু কিংবা সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত আবার তীব্র হলে তার প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।









