,

সমন্বয়হীনতা ও অবমূল্যায়নের অভিযোগে রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা বর্জন সিলেট বিএনপির

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সিলেট সফর এলেও সিটি করপোরেশনের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশ বর্জন করেছেন সিলেট বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। আয়োজনের ক্ষেত্রে যথাযথ সমন্বয় না থাকা, বিগত দিনে নির্যাতিত ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচি বর্জন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) একদিনের সংক্ষিপ্ত সফরে সিলেটে আসেন রাষ্ট্রপতি। তার এই আগমনকে ঘিরে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সুধী সমাবেশ ও নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। তবে এই অনুষ্ঠানে বিএনপির বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং স্থানীয় শীর্ষ নেতৃত্ব পুরোপুরি অনুপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করা নেতাদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, এবং সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। এ ছাড়াও বর্জনকারীদের মধ্যে আরও ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ক্ষুদ্রঋণ ও কুটির শিল্পবিষয়ক সহ-সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিমসহ দলের বহু নেতাকর্মী।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। সফরসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর তার সিটি করপোরেশনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
বয়কটের কারণ ব্যাখ্যা করে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এবং দুই কামেল পীরের মাজার জিয়ারতের সময় তারা উপস্থিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় অতিথির নিরাপত্তায় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছেন। তবে সিটি করপোরেশন যেভাবে একপেশে ও খামখেয়ালিভাবে নাগরিক কমিটি গঠন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। এমনকি অতীতে প্রধানমন্ত্রী বা ভিআইপিদের সফরে মাজার বা ঈদগাহ এলাকায় গাড়ি প্রবেশের অনুমতি মিললেও এবার সেই সাধারণ শিষ্টাচার বজায় রাখা হয়নি, যা তাদের অপমানিত করেছে।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মিস্টার ফখরুলের প্রতি তাদের অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। তিনি মাজার জিয়ারত করায় তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাকে বিদায়ও জানাবেন। কিন্তু গত দেড় দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে যারা গুম, খুন, নির্যাতন ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন, সেই ত্যাগী নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশকে আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়নি। দুঃসময়ের সহযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়াকে নিজের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।
দলীয় সূত্র জানায়, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করা হলেও রাষ্ট্রপতির সিলেট আগমন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। তবে স্থানীয় সরকারের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও সমন্বয়হীনতার প্রতিবাদ জানাতেই তারা এই নাগরিক সংবর্ধনা এড়িয়ে গেছেন।
Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।