,

টাঙ্গাইলে গ্রেফতার হলেন আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মী

টাঙ্গাইলের সখীপুরে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গজারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের ছেলে নিয়ামুল হক, যুবলীগ নেতা আতিক হাসান এবং সোহাগ সিকদার।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে চারজনের বিরুদ্ধে মামলায় নির্দিষ্টভাবে কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বৈষম্যবিরোধী মামলার অজ্ঞাতনামা চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের এই অভিযান শুরু হওয়ার আগে সখীপুরে একটি রাজনৈতিক মিছিলের ঘটনা ঘটে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার দাড়িয়াপুর এলাকায় সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলের ভিডিও পরে ওই দিন সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর পরের দুই দিনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মোট সাতজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ সোমবার রাতে চারজনকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল এবং সংশ্লিষ্ট মামলাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বিভিন্ন এলাকায় জোরদার হয়েছে। সখীপুরেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানের কথা বলা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রেজাউল ইসলাম স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পর্যায়ের দায়িত্বে ছিলেন। নিয়ামুল হক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে আতিক হাসান যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় পাওয়া গেছে। সোহাগ সিকদারের ক্ষেত্রেও পুলিশ তাকে একই মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে চারজনকে আদালতে পাঠানোর মধ্য দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলার অভিযোগ ও আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ওসি মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশের অভিযান বন্ধ হচ্ছে না। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।