পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় এক তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে মুঠোফোনে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির স্থানীয় এক নেতাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী। পরে ভুক্তভোগী তরুণীর করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হলে বিচারিক আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার হওয়া আমিনুল ইসলাম (৬০) উপজেলার একটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একজন সদস্য।
ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম বেশ কিছুদিন ধরে ওই তরুণীর মুঠোফোনে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। এ সময় তাঁকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি আপত্তিকর ও কুপ্রস্তাব দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে ওই তরুণী বিরক্ত হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার রাতে ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আমিনুল ইসলাম নিরাপদ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল দেওয়ার কথা বলে ওই তরুণীকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেন। তরুণী এতে রাজি না হলে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এ অবস্থায় তরুণী বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি জানতে পারেন। রাতের কোনো একপর্যায়ে আমিনুল ইসলাম ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর বাড়ির কাছে যান। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে সেখানে দেখতে পেয়ে আটক করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পরে আমিনুল ইসলামকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দুমকী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়।
দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন বলেন, এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন আমিনুল ইসলামকে আটক করেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ভুক্তভোগী তরুণীর করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, আমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মুঠোফোনে তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। পাশাপাশি তাঁকে আপত্তিকর প্রস্তাবও দেওয়া হতো। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমিনুল ইসলামকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত আমিনুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর নিজস্ব অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্র বলছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একজন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে একজন তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
তবে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া আর আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। এ কারণে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী চলবে।









