,

ঢাকার সড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙায় ২৮৫৫ মামলা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক দিনে ২ হাজার ৮৫৫টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী পরিচালিত অভিযানে এসব মামলা করা হয়। একই অভিযানে আইন লঙ্ঘনকারী ৬১৩টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৬৮টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর আটটি ট্রাফিক বিভাগে পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে করা মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

রমনা ট্রাফিক বিভাগে মোট ১৩৭টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি বাস, একটি ট্রাক, চারটি কাভার্ড ভ্যান, ১৪টি সিএনজি অটোরিকশা এবং ৪৮টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

লালবাগ বিভাগে হয়েছে ১৬০টি মামলা। সেখানে ১৩টি বাস, ১১টি ট্রাক, তিনটি কাভার্ড ভ্যান, ১০টি সিএনজি ও ৮৩টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগে মোট ২৮৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭০টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ওয়ারী বিভাগে ৩৮৬টি মামলা করা হয়েছে। এ বিভাগে ২৬টি বাস, ২৫টি ট্রাক, ৩৪টি কাভার্ড ভ্যান, ৪৪টি সিএনজি ও ১৫৮টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগে ২১১টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ১০টি বাস, দুটি ট্রাক, ১০টি কাভার্ড ভ্যান, ২৫টি সিএনজি এবং ৯৮টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

মামলার সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে ছিল মিরপুর ট্রাফিক বিভাগ। সেখানে এক দিনে ৬২১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি বাস, ১৪টি ট্রাক, ৫৩টি কাভার্ড ভ্যান, ৫৫টি সিএনজি এবং ২৯৩টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উত্তরা ট্রাফিক বিভাগে মোট ৬১৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯টি বাস, ১৩টি ট্রাক, ২২টি কাভার্ড ভ্যান, ৫১টি সিএনজি এবং ২৫৯টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

গুলশান ট্রাফিক বিভাগে ৪৪০টি মামলা করা হয়েছে। এ বিভাগের অভিযানে ৫৫টি বাস, পাঁচটি ট্রাক, ১২টি কাভার্ড ভ্যান, ৪৬টি সিএনজি এবং ১২২টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

বিভাগভিত্তিক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, মিরপুরে সর্বোচ্চ ৬২১টি মামলা হয়েছে। এরপর উত্তরা ৬১৫টি, গুলশান ৪৪০টি এবং ওয়ারী ৩৮৬টি মামলার মাধ্যমে পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ১৩৭টি মামলা হয়েছে রমনা ট্রাফিক বিভাগে।

অভিযানে শুধু মামলা নয়, যানবাহন ডাম্পিং ও রেকারের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মোট ৬১৩টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৬৮টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে পুলিশ।

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ। পুলিশের ভাষ্য, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

তবে ডিএমপির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ২ হাজার ৮৫৫টি মামলার ক্ষেত্রে কোন কোন নির্দিষ্ট ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিভাগভিত্তিক বিবরণ দেওয়া হয়নি। ফলে মামলার কারণগুলো আলাদাভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। রাজধানীর সড়কে নিয়ম মেনে যানবাহন চালানো এবং ট্রাফিক আইন অনুসরণের ওপরই এ ধরনের কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।