দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ১২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯১২ জন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত হাম পরিস্থিতি-সংক্রান্ত এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের এবং দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ৩৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হিসাবেও ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে এগিয়ে। এ বিভাগে এ পর্যন্ত ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রয়েছে বরিশাল বিভাগ, যেখানে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ১৯ জন মারা গেছেন।
অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বিভিন্ন বিভাগে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে এখন পর্যন্ত ৪০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৫৭ জন।
এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৯৩ জন, ময়মনসিংহে ৭৭ জন, চট্টগ্রামে ৬৮ জন, বরিশালে ৫৭ জন, খুলনায় ৩৮ জন এবং রংপুরে ১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
হাম পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৬৬ জন। এর ফলে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জনে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, দেশে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জন। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনের শরীরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর তুলনায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। একই সঙ্গে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা নিশ্চিত আক্রান্তের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মৃত্যু ও আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি শত শত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাম পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।








