গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ওষুধবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাসুদ রানা (৪০) নামে এক মাইক্রোবাসচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের এক যাত্রী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মাঝিপাড়া এলাকায় গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুদ রানা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাঁশগাড়া এলাকার ফয়জার রহমানের ছেলে। দুর্ঘটনায় আহত মো. সানি মাইক্রোবাসটির যাত্রী ছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মাঝিপাড়া এলাকায় গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কে আলহামরা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে একটি ওষুধবাহী মাইক্রোবাস আসছিল। সকাল ১০টার দিকে যানবাহন দুটি কাছাকাছি এলে তাদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের ধাক্কায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালক মাসুদ রানা গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে তাঁকে বের করে আনা হয়। তবে ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
আহত যাত্রী মো. সানিকেও দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক তৈরি হয়। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সড়কের ওপর ও পাশে থাকায় যান চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার আলম খান দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিও আটক করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে।
তবে ঠিক কী কারণে দুই যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সড়কের কোন অংশে যানবাহন দুটি সংঘর্ষে জড়িয়েছে, চালকেরা কী গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন কিংবা কারও অসতর্কতা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের পরই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া বাসচালক ও সহকারীকে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় একজন চালকের মৃত্যু এবং অপর একজনের আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মাইক্রোবাসের সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির ধরন পর্যালোচনা করে কারণ নির্ধারণ করা হয়। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে দায়ী করা সমীচীন নয়।
নিহত মাসুদ রানা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন কি না, তাঁর পরিবারের সদস্যসংখ্যা বা দুর্ঘটনার পর মরদেহের বিষয়ে পরিবারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের মাঝিপাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আবারও সড়কে যানবাহন চলাচলের সময় সতর্কতা, নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব সামনে এনেছে। তবে এই নির্দিষ্ট দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।










