আসন্ন বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) নতুন ভূমিকায় দেখা যেতে পারে ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার বেন স্টোকসকে। অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের হয়ে এবারের আসরে ইনিংসের শুরুতে ব্যাট হাতে নামার পরিকল্পনা করছে দলটি। টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত ওপেনার না হলেও স্টোকসের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এমন ভাবনা অ্যাডিলেডের।
মঙ্গলবার স্টোকসের সঙ্গে এক বছরের চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স। সবচেয়ে বড় বিষয়, পুরো মৌসুমে ইংলিশ অলরাউন্ডারকে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে দলটির। ফলে শুধু ব্যাটিং বা বোলিং নয়, মাঠের ভেতরে নেতৃত্ব ও দলের সামগ্রিক পরিবেশেও স্টোকসকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে চান কোচ টিম পেইন।
স্টোকসকে দলে নেওয়ার পথ অবশ্য সহজ ছিল না। পেইনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইংলিশ ক্রিকেটারের স্বাক্ষর পাওয়ার জন্য একাধিক দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হয়েছিল অ্যাডিলেডকে। তাকে পাওয়ার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে যথেষ্ট আগ্রাসী ছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টার ফল মিলেছে এক বছরের চুক্তিতে।
অ্যাডিলেডের ওপেনিং কম্বিনেশনেও এবার পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমে দলটির নিয়মিত ওপেনিং জুটি ছিল ম্যাট শর্ট ও ক্রিস লিন। তবে লিন এখনো নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হননি। তিনি দলে ফিরলেও আগের জায়গায় ব্যাট করবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। সেই পরিস্থিতিতে স্টোকসকে ওপেন করানোর পরিকল্পনা সামনে এনেছেন পেইন।
কোচের মতে, বিগ ব্যাশে ইনিংসের শুরুতে ব্যাট করার জন্য স্টোকসের সামর্থ্য যথেষ্ট। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার পেস ও বাউন্সি উইকেট তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য স্টোকসের ক্যারিয়ারের বড় অংশ ওপেনিংয়ে কাটেনি। ১৪৮ ইনিংসে মাত্র ১৬ বার ইনিংসের সূচনা করেছেন তিনি। সাধারণত তিন, চার কিংবা পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতেই বেশি দেখা গেছে তাকে। কিন্তু ওপেনার হিসেবে তার পরিসংখ্যানই আবার নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। এই অবস্থানেই তার গড় ও স্ট্রাইক রেট তুলনামূলকভাবে ভালো। ওপেনিংয়ে ব্যাট করে করা দুটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির একটিও এসেছে এই ভূমিকায়।
অর্থাৎ পরিসংখ্যানের দিক থেকে স্টোকসকে ওপেন করানোর সিদ্ধান্ত একেবারে অচেনা কোনো ধারণা নয়। বরং তার ব্যাটিংয়ের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ধরনকে কাজে লাগানোর একটি কৌশল হিসেবেই বিষয়টি দেখছে অ্যাডিলেড।
টি-টোয়েন্টিতে স্টোকসের সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৪ সালের দ্য হান্ড্রেডে। এরপর দীর্ঘ সময় এই সংস্করণের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে তাকে দেখা যায়নি। ফলে বিগ ব্যাশে তার প্রত্যাবর্তনও বাড়তি আগ্রহ তৈরি করছে। নতুন ভূমিকায় তিনি কীভাবে মানিয়ে নেন, সেটিও থাকবে নজরে।
পেইন মনে করেন, দীর্ঘ বিরতির বিষয়টি স্টোকসকে ওপেনিংয়ে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বড় বাধা নয়। বরং তার বহুমুখী ব্যাটিং দক্ষতাই তাকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে। স্টোকস শুরুতে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে খেলতেই প্রয়োজনের মুহূর্তে ইনিংসের গতি বাড়িয়ে দিতে পারেন। শক্তিশালী শট খেলার পাশাপাশি স্পিন মোকাবিলাতেও তার সামর্থ্য রয়েছে।
স্টোকসের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের ধরন বদলে নেওয়ার ক্ষমতা। কখনও দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব নিতে পারেন, আবার দলের প্রয়োজন হলে ইনিংস গড়ার ভূমিকাতেও থাকতে পারেন। ওপেনিংয়ে তাকে খেলালে সেই বহুমুখী দক্ষতা শুরু থেকেই কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে অ্যাডিলেড।
এর সঙ্গে যুক্ত হবে তার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা। ইংল্যান্ডের হয়ে বিভিন্ন সংস্করণে নেতৃত্ব দেওয়া স্টোকস ড্রেসিংরুমেও প্রভাব ফেলতে পারেন। পেইনও ব্যাটিংয়ের বাইরে দলের অন্যান্য ক্ষেত্রে তার অবদানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সবকিছু পরিকল্পনামতো হলে আসন্ন বিগ ব্যাশে স্টোকসের পরিচিত অলরাউন্ডার ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন দায়িত্ব। ইনিংসের শুরুতেই তাকে নামিয়ে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণে চাপ তৈরি করতে চাইবে অ্যাডিলেড। টি-টোয়েন্টিতে খুব বেশি সময় ওপেন না করলেও আগের পরিসংখ্যান ও তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ধরন বলছে, এই পরীক্ষায় সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ বিরতির পর বিগ ব্যাশে ফিরে স্টোকস কতটা দ্রুত ছন্দ খুঁজে পান এবং ওপেনার হিসেবে অ্যাডিলেডের পরিকল্পনাকে কতটা সফল করতে পারেন। তার হাতে শুরুতেই ব্যাট তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সফল হলে স্ট্রাইকার্সের ব্যাটিং লাইনআপও পেতে পারে নতুন মাত্রা।









