জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

হামজার অভিষেকেই শেফিল্ডের নাটকীয় প্রথম জয়

স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেই জয়ের স্বাদ পেলেন বাংলাদেশি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। মঙ্গলবার রাতে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। নতুন ক্লাবের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই জয় পাওয়ায় হামজার জন্য রাতটি হয়ে উঠেছে বিশেষ স্মরণীয়।

চলতি মৌসুমে এটি শেফিল্ড ইউনাইটেডের প্রথম জয়। এর আগে লিগে তিনটি ম্যাচ খেলেও জয়ের দেখা পায়নি দলটি। তিন ম্যাচেই ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছিল তাদের। ফলে বোল্টনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে শেফিল্ড।

ব্রামাল লেনে শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল উত্তেজনা। ঘরের মাঠে খেললেও শেফিল্ডকে শুরুতেই বড় ধাক্কা দেয় বোল্টন। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই জাভিয়ার সিমন্স গোল করে সফরকারীদের এগিয়ে দেন। শুরুতেই পিছিয়ে পড়লেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় শেফিল্ড। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে সমতাসূচক গোল করে স্বাগতিকরা।

এরপর প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণ চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে বোল্টন। স্যাম ডাল্বির গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।

তবে এবারও বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি বোল্টন। মাত্র এক মিনিট পরেই প্যাট্রিক ব্যামফোর্ড গোল করে শেফিল্ডকে আবার সমতায় ফেরান। ২-২ স্কোরলাইনে ম্যাচ যখন শেষ হওয়ার পথে, তখনই আসে সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে রোমেলে ডোনোভান শেফিল্ডের হয়ে জয়সূচক গোল করেন। শেষ মুহূর্তের ওই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। একই সঙ্গে মৌসুমের প্রথম জয়ও পায় শেফিল্ড ইউনাইটেড।

পরিসংখ্যানেও ম্যাচটির প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট। বল দখলে শেফিল্ড সামান্য এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের দিক থেকে বোল্টন ছিল যথেষ্ট সক্রিয়। শেফিল্ড ৫৩ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং প্রতিপক্ষের গোলমুখে ২০টি শট নেয়। এর মধ্যে তিনটি শট থেকে গোল আসে।

অন্যদিকে বোল্টনের বল দখল ছিল ৪৭ শতাংশ। তারা শেফিল্ডের গোলবার লক্ষ্য করে ২১টি শট নেয়, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। এর মধ্য থেকেই দুটি গোল পায় সফরকারীরা। অর্থাৎ পরিসংখ্যানের বিচারে ম্যাচটি ছিল প্রায় সমানে সমান, কিন্তু শেষ মুহূর্তের কার্যকর আক্রমণেই পার্থক্য গড়ে দেয় শেফিল্ড।

হামজার জন্যও ম্যাচটি ছিল আলাদা গুরুত্বের। ক্লাবটির সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হওয়ার পর এটাই ছিল তার প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। অভিষেকেই দলকে জয় এনে দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর ইংলিশ ফুটবল ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়কে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

বোল্টনের বিপক্ষে এই জয় শেফিল্ড ইউনাইটেডকে শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং মৌসুমের শুরুতে প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসও দিয়েছে। টানা তিন ড্রয়ের পর ঘরের মাঠে এমন নাটকীয় জয় দলের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। আর বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—হামজা চৌধুরীর নতুন ক্লাবে অভিষেক হলো জয় দিয়ে।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর