জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

আদালত প্রাঙ্গণে বিচারককে পিস্তল দেখিয়ে ভয়

কক্সবাজার জেলা আদালত প্রাঙ্গণে এক বিচারককে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৩০ নভেম্বর। বিষয়টি জানার পর আদালতের আরও দুই বিচারক তৎকালীন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ডেকে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি পুলিশ সুপারকেও অবহিত করা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কক্সবাজার জেলা জজ পদমর্যাদার এক বিচারক এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত প্রাঙ্গণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাসংবেদনশীল স্থানে একজন বিচারককে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয় দেখানোর ঘটনা বিচারিক পরিবেশের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বিচারকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত জানুয়ারিতে জেলা জজ পদমর্যাদার একাধিক বিচারক কক্সবাজারের তৎকালীন পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানের কাছে লিখিতভাবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তাকর্মী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁদের দেওয়া চিঠিরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যেই আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। গত ২৪ মে দিনের বেলায় আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। দিনের ব্যস্ত সময়ে আদালত এলাকায় এমন সহিংসতার ঘটনা বিচারক, আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মন্নান বলেন, স্বাধীনতার পর কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি তিনি আর দেখেননি। তাঁর মতে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, উখিয়া ও টেকনাফের অনেক এলাকায় সন্ধ্যা নামার আগেই অপরাধীদের ভয়ে একধরনের নীরবতা নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি আদালতকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

আইনজীবী সমিতির সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলি এবং বিচারককে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ—দুটি ঘটনাই আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিচারকরা যদি কর্মস্থলেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আদালত দেশের বিচারব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কক্সবাজারে পরপর এমন ঘটনার অভিযোগ ওঠায় আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, আগের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।

  1. এদিকে বিচারকদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা চেয়ে দেওয়া চিঠির পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং পিস্তল প্রদর্শনের অভিযোগের পর আইনগত পদক্ষেপ কেন কার্যকর হয়নি—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে। আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । জিলাইভ বাংলা

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর