রাজধানীর ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা ওরফে ‘কাইল্লা মাসুদ’সহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি একনলা শটগান এবং আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধারের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ডেমরা সেতুর ঢাল এলাকা থেকে তাপস নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাপস আলোচিত রুবেল হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার বরাব এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানকার একটি বাড়ি থেকে মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান ছামি গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রূপগঞ্জের বরাব এলাকায় জলিলের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে কাঠের পাটাতনের ওপর থেকে একটি পুরোনো একনলা শটগান ও আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরে একই এলাকায় তাপসের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং পাঁচ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির্জা তাইফুর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুজনের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গ্রেফতার মাসুদ রানা ডেমরার বক্সনগর এলাকার মৃত শাহজাহান মিয়ার পালক ছেলে। আর তাপস বড়ভাঙ্গা মহাকাশ রোড এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তাপসের বিরুদ্ধে রুবেল হত্যা মামলায় সাজা রয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর মাসুদ রানার মাধ্যমে তাপস বিএনপির নাম ব্যবহার করে ডেমরা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। একই সঙ্গে এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট ভোররাতে ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, চারটি মোটরসাইকেলে করে আটজন ব্যক্তি বাড়িটির সামনে এসে পরপর তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে বাড়ির দোতলার একটি জানালার কাচ ভেঙে যায়। হামলার সময় বাড়িতে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তলের গুলির খোসা এবং একটি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করে। এরপর থেকেই হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে তাপস এবং পরে মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া গুলির খোসা ও কার্তুজের সঙ্গে গ্রেফতারদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পরীক্ষা এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে ডেমরা ও আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং গুলির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।









