চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অটোরিকশার একটি গ্যারেজকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে পাঁচটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২০টি গুলি এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার রাতে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে জামাল হোসেন ও কবির আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনের বাড়িই হাটহাজারী উপজেলায়। জামাল পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং কবির অটোরিকশাচালক। পুলিশের দাবি, নিজেদের পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করেই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হাটহাজারীর সরকারহাট এলাকার একটি অটোরিকশার গ্যারেজে এসব দেশীয় অস্ত্র তৈরি করা হতো। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওসমান নামে গ্যারেজের এক কর্মী গোপনে অস্ত্র তৈরি করতেন। পরে তৈরি করা অস্ত্র বিক্রির জন্য জামাল ও কবিরের কাছে দেওয়া হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্যারেজটির মালিক বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। মালিকের অনুপস্থিতিতে ওসমান দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজটি পরিচালনা করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গ্যারেজে নিয়মিত অটোরিকশা মেরামতের কাজ চলার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সেখানে আড়ালে অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম চালানো হতো কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্র বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর জামাল ও কবিরের সঙ্গে ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই সময় তাঁরা বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রির প্রস্তাব দেন। এরপর পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জামাল ও কবির তাঁদের স্বাভাবিক পেশাগত পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন। একজন রাজমিস্ত্রি এবং অন্যজন অটোরিকশাচালক হিসেবে এলাকায় পরিচিত হওয়ায় তাঁদের কর্মকাণ্ড সহজে সন্দেহের উদ্রেক করত না বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।
অভিযানের পর উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গুলি এবং তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এসব অস্ত্র কোথায় এবং কার কাছে বিক্রি করা হতো, এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং অস্ত্র তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও হাটহাজারী সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, পুলিশ অস্ত্রের ক্রেতা সেজে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র কেনাবেচার তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।
এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে হাটহাজারী থানায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্যারেজে অস্ত্র তৈরির অভিযোগে ওসমানকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা গেলে অস্ত্র তৈরির উৎস, সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগের পূর্ণ চিত্র নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।









