জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

আপনাদের ভক্ত হওয়াটাই কি আমাদের গুনাহ ছিল

ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন। একসময় চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে তাকে নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যাচ্ছে না। ব্যক্তিজীবন নিয়েও তিনি রয়েছেন অনেকটা আড়ালে। এর মধ্যেই সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে আলোচনায় এনেছে এই অভিনেত্রীকে।

পপি জানিয়েছেন, জীবনের বাকি সময়টা তিনি শান্তিতে কাটাতে চান এবং ধর্মীয় অনুশীলনে মনোযোগী হতে চান। নিজের অতীত জীবন নিয়েও অনুশোচনার কথা বলেছেন তিনি। তার বক্তব্যের একটি অংশে অভিনয়জীবনের সঙ্গে ‘পাপ’ শব্দটি যুক্ত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পপি বলেন, তিনি সুন্দরভাবে বাঁচতে চান, আল্লাহর নাম নিতে চান। জীবনে যত পাপ করেছেন, সেগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত করে সুন্দরভাবে জীবন শেষ করতে চান—এমন ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

পপির এই বক্তব্যের পর চলচ্চিত্র অঙ্গনে ও দর্শকদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করার কথা বলছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন অভিনয় পেশাকে পাপ হিসেবে দেখার যৌক্তিকতা নিয়ে।

এই বিতর্কের মধ্যেই পপির বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। সোমবার, ৩১ আগস্ট, নিজের ফেসবুক পাতায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি পপির বক্তব্যের পাশাপাশি অভিনেত্রী মৌসুমীর পুরোনো একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

জয়ের বক্তব্যে মূলত উঠে এসেছে ভক্তদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন। তিনি মনে করিয়ে দেন, মৌসুমীও একসময় অভিনয় ছেড়ে ধর্মীয় জীবনে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এমনকি নিজের অভিনীত সব ছবি মুছে ফেলার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে মৌসুমীকে আবার অভিনয়ে দেখা গেছে।

পপির সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং মৌসুমীর আগের মন্তব্যকে একই সূত্রে দেখেছেন জয়। তার ভাষ্য, অভিনেত্রীরা যখন অভিনয়কে জীবনের একপর্যায়ে ভুল বা গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করছেন, তখন যারা তাদের অভিনয়ের অনুরাগী ছিলেন, তাঁদের অবস্থান কী হবে—সেই প্রশ্নও সামনে আসে।

জয় তার পোস্টে লেখেন, ‘নায়িকা মৌসুমী যা বলেছিলেন, নায়িকা পপিও তা বললেন। এখন শাবনূর এবং পূর্ণিমা একই কথা বললে একটা জেনারেশন পূর্ণ হতো।’

এরপর ভক্তদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, অভিনয়কে গুনাহর কাজ হিসেবে বুঝতে পারার আগে যারা অভিনেত্রীদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের দায় কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। জয়ের ভাষায়, ‘আমরা যে কিছুই না বুঝেই আপনাদের ভক্ত হয়ে ভুল করেছি এবং গুনাহ করেছি, আমাদের কী হবে তাহলে?’

জয়ের বক্তব্যের আরেকটি অংশে ধর্মীয় অনুশীলন ও জীবনের বিভিন্ন সময়ের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি পপির কাছে ইবাদতের সময় ভক্তদের জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বর্তমানে জনপ্রিয় শিল্পীরাও ভবিষ্যতে একই ধরনের বক্তব্য দেবেন কি না, সেই প্রশ্নও রাখেন।

তিনি আরও লেখেন, ‘ইবাদতের সময় ভক্তদের জন্যেও দোয়া কইরেন।’ এরপর বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় শিল্পীদের প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, তারাও কি ভবিষ্যতে একই ধরনের কথা বলবেন?

জয়ের পোস্ট প্রকাশের পর সেটির মন্তব্যের ঘরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। কেউ কেউ পপির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করার কথা বললেও, অভিনয়কে সরাসরি পাপ হিসেবে দেখার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বাপ্পারাজের মন্তব্যেও সমালোচনার সুর

জয়ের পোস্টে মন্তব্য করেছেন অভিনেতা বাপ্পারাজ। তার মন্তব্যেও ছিল ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন এবং সমালোচনা। অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর ধর্মীয় জীবনের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

বাপ্পারাজ লেখেন, ‘যখন ইনকাম হয়, তখন পাপ মনে হয় না। বেকার হয়ে গেলেই মনে হয় আগে পাপ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইবাদত সবসময়ের জন্যই, বেকারদের জন্য না।’

বাপ্পারাজের এই মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ধর্মীয় অনুশীলনকে জীবনের কোনো নির্দিষ্ট সময় বা পেশাগত অবস্থার সঙ্গে যুক্ত না করার বিষয়টি।

পপির মন্তব্য ঘিরে নতুন আলোচনা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে পপি দীর্ঘ সময় ধরে পরিচিত মুখ। শূন্য দশকে তিনি ছিলেন ব্যস্ত ও দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন। চলচ্চিত্রে কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় পুরস্কার ও প্রশংসাও পেয়েছেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান।

তার ব্যক্তিজীবন ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। নতুন কোনো চলচ্চিত্রে তাকে না দেখা গেলেও মাঝেমধ্যে তার বক্তব্য বা ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত খবর আলোচনায় আসে।

সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে পপির কথায় যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তা সেই কৌতূহলকে আরও বাড়িয়েছে। তিনি ভবিষ্যৎ জীবনকে শান্তিপূর্ণভাবে কাটানো এবং ধর্মীয় অনুশীলনে মন দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্রে আর কখনোই ফিরবেন না—এমন সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন কি না, সেটি আলাদা বিষয়।

তার বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে অতীত জীবনের কর্মকাণ্ডকে ‘পাপ’ হিসেবে দেখার বিষয়টি। আর সেখান থেকেই জয়ের প্রশ্ন, বাপ্পারাজের মন্তব্য এবং দর্শকদের নানা প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।

পপির বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক মূলত শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভিনয় পেশা, ধর্মীয় অনুশীলন, তারকাদের প্রতি দর্শকদের দীর্ঘদিনের ভক্তি এবং জনপ্রিয় শিল্পীদের প্রকাশ্য বক্তব্যের প্রভাব—সবকিছুই।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । জিলাইভ বাংলা

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর