লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে অবশেষে জয়ের পথে ফিরল ইন্টার মিয়ামি। সিএফ মন্ট্রিয়লকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে মিয়ামি। একই সঙ্গে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার হতাশাও কাটিয়েছে দলটি।
ম্যাচটিতে মেসি ছিলেন একাই একশো। আর্জেন্টাইন মহাতারকা করেছেন চার গোল এবং করিয়েছেন আরও একটি। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর উপস্থিতিই ছিল সবচেয়ে বড় পার্থক্য। বিশেষ করে দুইটি ফ্রি-কিক থেকে গোল করে তিনি দেখিয়েছেন, সেট-পিসেও তাঁর দক্ষতা এখনও কতটা ভয়ংকর।
ম্যাচের আগে মিয়ামির পরিস্থিতি অবশ্য খুব স্বস্তিদায়ক ছিল না। দলের স্থায়ী প্রধান কোচ তখনও দায়িত্ব নিতে পারেননি। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গিয়ের্মো ওয়োস নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের পাশেও থাকতে পারেননি। ফলে সহকারী কোচ রাফায়েল পেরেজকে দায়িত্ব সামলাতে হয়।
এর মধ্যেই মেসির নেতৃত্বে মাঠে যেন অন্য এক মিয়ামিকে দেখা গেল।
৪০ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে প্রথম গোলটি করেন মেসি। তাঁর নেওয়া শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। বিরতির পর ৫২ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি আসে আরও দুর্দান্তভাবে। বল নিয়ে একাই এগিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে মেসি লক্ষ্যভেদ করেন।
এরপর লুইস সুয়ারেজকে দিয়ে গোল করান তিনি। মেসি ও সুয়ারেজের দীর্ঘদিনের বোঝাপড়ার আরেকটি উদাহরণ দেখা যায় এই মুহূর্তে। মাঠে দুজনের পারস্পরিক সমন্বয় মিয়ামির আক্রমণকে আরও কার্যকর করে তোলে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র সাত মিনিট আগে মেসি নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। গোলরক্ষক এগিয়ে আসার পর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তায় বলটি তাঁর মাথার ওপর দিয়ে আলতো করে পাঠিয়ে জালে জড়ান মেসি।
তবে সেখানেই থামেননি তিনি।
ইনজুরি সময়ে আবারও ফ্রি-কিকের সুযোগ পান মেসি। এবার তাঁর নিখুঁত শট সরাসরি জালের কোণ খুঁজে নেয়। চার গোল পূর্ণ করে ম্যাচের নায়ক হিসেবে রাত শেষ করেন তিনি।
এক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করার ঘটনা মেসির ক্যারিয়ারে এটি অষ্টম। তবে ইন্টার মিয়ামির হয়ে এটাই তাঁর প্রথম চার গোলের ম্যাচ। এর আগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বার্সেলোনার হয়ে এইবারের বিপক্ষে এক ম্যাচে চারবার গোল করেছিলেন তিনি।
মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে এই চার গোলের পর মেজর লিগ সকারের গোলদাতাদের তালিকাতেও মেসি শীর্ষে উঠে এসেছেন। ১৯ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১৮। তাঁর পেছনে রয়েছেন এফসি ডালাসের পিটার মুসা।
মিয়ামির অন্য গোলগুলোর মধ্যেও ছিল বিশেষ কিছু মুহূর্ত। ব্রাজিলের তারকা কাসেমিরো গ্রীষ্মে ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে ১৮ বছর বয়সী আলেকজান্ডার শ-ও গোলের তালিকায় নাম লেখান।
জয়টি মিয়ামির জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক ফলাফলের কারণে। ২৫ জুলাইয়ের পর মেজর লিগ সকারে এটাই ছিল তাদের প্রথম জয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এর আগে টানা পাঁচ ম্যাচে জয় পায়নি দলটি। সেই ধারায় লিগের পাশাপাশি লিগস কাপের ম্যাচও ছিল।
কোচিং পরিস্থিতিও মিয়ামির জন্য আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। নতুন স্থায়ী কোচ হিসেবে ক্রিস্টিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেজের নাম ঘোষণা করা হলেও প্রয়োজনীয় কাজের অনুমতিপত্র না পাওয়ায় তিনি এখনও দায়িত্ব নিতে পারেননি। ফলে আপাতত দলের মাঠের কৌশল সামলানোর দায়িত্ব বর্তেছে সহকারী কোচের ওপর।
তবু মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে সেই অনিশ্চয়তার কোনো ছাপ দেখা যায়নি। মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সে আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত, আর সাত গোলের জয় দলটির আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিয়েছে।
এই জয়ের পর ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে ইন্টার মিয়ামি। তাদের ওপরে রয়েছে ন্যাশভিল এসসি। বিপরীতে মন্ট্রিয়ল রয়েছে ১৪তম স্থানে, অর্থাৎ তালিকার নিচের দিকেই তাদের অবস্থান।
মিয়ামির জন্য রাতটি তাই শুধু তিন পয়েন্টের নয়। দীর্ঘ জয়খরা কাটানো, ক্লাবের সবচেয়ে বড় জয় অর্জন এবং মেসির চার গোল—সব মিলিয়ে এটি হয়ে থাকল দলের মৌসুমের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ।









