সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ১ হাজার ৯৩৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির প্রকাশিত পূর্বাভাসে এমন তথ্য উঠে এসেছে। অঞ্চলভেদে লোডশেডিংয়ের সম্ভাব্য মাত্রায় বেশ বড় পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা করা হয়েছে ঢাকা জোনে। সবচেয়ে কম হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে বরিশালে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ঢাকা জোনে ৫৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। গত শনিবার একই সময়ে ঢাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৬৯৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে ঢাকায় সম্ভাব্য লোডশেডিং ১২৯ মেগাওয়াট কমেছে। শতকরা হিসাবে এই হ্রাস প্রায় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে কমার পরও দেশের অন্য সব অঞ্চলের তুলনায় ঢাকায় সম্ভাব্য লোডশেডিং অনেক বেশি। মোট ১ হাজার ৯৩৯ মেগাওয়াট পূর্বাভাসের মধ্যে শুধু ঢাকা জোনেই প্রায় ২৯ শতাংশ লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সন্ধ্যার বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে রাজধানী ও এর আশপাশের সরবরাহব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
ঢাকার পর ময়মনসিংহ ও খুলনা জোনে লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস তুলনামূলক বেশি। দুই অঞ্চলেই ২৫০ মেগাওয়াট করে, অর্থাৎ সম্মিলিতভাবে ৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। দেশের মোট সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি এই দুই অঞ্চলের হিস্যা।
রাজশাহী ও রংপুর জোনে ২০০ মেগাওয়াট করে লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দুই অঞ্চলের সম্ভাব্য লোডশেডিং যোগ করলে দাঁড়ায় ৪০০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জোনে ১৫০ মেগাওয়াট করে মোট ৩০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে।
সবচেয়ে কম লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস রয়েছে বরিশাল জোনে। সেখানে ৭০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। সিলেট জোনে সম্ভাব্য লোডশেডিং ১০০ মেগাওয়াট। ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পূর্বাভাসের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ৪৯৯ মেগাওয়াট।
| অঞ্চল | সম্ভাব্য লোডশেডিং |
|---|---|
| ঢাকা | ৫৬৯ মেগাওয়াট |
| ময়মনসিংহ | ২৫০ মেগাওয়াট |
| খুলনা | ২৫০ মেগাওয়াট |
| রাজশাহী | ২০০ মেগাওয়াট |
| রংপুর | ২০০ মেগাওয়াট |
| চট্টগ্রাম | ১৫০ মেগাওয়াট |
| কুমিল্লা | ১৫০ মেগাওয়াট |
| সিলেট | ১০০ মেগাওয়াট |
| বরিশাল | ৭০ মেগাওয়াট |
| মোট | ১,৯৩৯ মেগাওয়াট |
সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা সাধারণত বাড়ে। বাসাবাড়িতে আলো, বৈদ্যুতিক পাখা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও বিদ্যুতের প্রয়োজন থাকে। ফলে এই সময় উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রকাশিত পূর্বাভাসের হিসাব বলছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা—এই তিন জোনে সম্মিলিত সম্ভাব্য লোডশেডিং ১ হাজার ৬৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দেশের মোট পূর্বাভাসের অর্ধেকেরও বেশি এই তিন অঞ্চলে হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় সম্মিলিত সম্ভাব্য লোডশেডিং ৮০০ মেগাওয়াট।
তবে পূর্বাভাসকে দিনের শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত বাস্তব পরিস্থিতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিদ্যুতের চাহিদা, উৎপাদন, সঞ্চালনব্যবস্থা এবং সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকৃত লোডশেডিংয়ের পরিমাণও কমবেশি হতে পারে। কোনো অঞ্চলে পূর্বাভাসের চেয়ে কম বা বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার সম্ভাবনাও তাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আজকের পূর্বাভাসে একটি ইতিবাচক দিক হলো, আগের দিনের তুলনায় ঢাকায় সম্ভাব্য লোডশেডিং কমেছে। তবে রাজধানীতেই এখনো দেশের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে। বিপরীতে বরিশালে সম্ভাব্য চাপ সবচেয়ে কম। ফলে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে অঞ্চলভেদে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি একরকম থাকবে না।









