জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

কালীগঞ্জে অটোরিকশা-পিকআপ সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মো. হাফিজ শেখ (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও দুই নারী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর সংঘর্ষে জড়িত দুটি যানবাহনই ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার বাঘের পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হাফিজ শেখ উপজেলার বাহাদুরসাদী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আ. কাদিরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাফিজ শেখ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মীরের বাজার থেকে নিজের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। অটোরিকশাটি বাঘের পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশায় থাকা হাফিজ শেখ ও দুই নারী সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে আহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই পিকআপ ভ্যান ও অটোরিকশার চালকেরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা দুর্ঘটনার খবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাফিজ শেখকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। আহত দুই নারীকে তখন গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাঁদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় মানুষের ভিড় তৈরি হয়। কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনাও দেখা দেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। নিহতের মরদেহ পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক জাবেদ একজন নিহত ও দুই নারী আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি যানবাহনই ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং নিহত ব্যক্তির মরদেহ পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এখন দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপ ভ্যান ও অটোরিকশার চালকদের শনাক্ত করা পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একই সঙ্গে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং পাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।

টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কটি গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি। এই সড়কে যাত্রীবাহী যানবাহনের পাশাপাশি পণ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অটোরিকশার মতো তুলনামূলকভাবে ছোট যানবাহন বড় ও ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়লে হতাহতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কালীগঞ্জের এই দুর্ঘটনা সড়কে চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, অসতর্কভাবে বিপরীতমুখী যান অতিক্রমের চেষ্টা কিংবা সড়কের পরিস্থিতি বিবেচনা না করে চালানো—যেকোনো একটি কারণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে, তা পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | সাব-এডিটর । GLive24.com

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর