হিমালয় অঞ্চলের দেশ নেপাল এবং সংলগ্ন তিব্বতজুড়ে আঘাত হেনেছে প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধস। দীর্ঘস্থায়ী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং মৃতের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে সাতশো পঞ্চাশ জনে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দুর্যোগের পঞ্চম দিনেও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ছয়শো জন বিদেশি নাগরিক থাকায় পরিস্থিতি আরও বেশি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলো এখন মূলত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নেপালের সেনাবাহিনী এবং জরুরি উদ্ধার বিভাগের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত অন্তত আট হাজার একশো ছিয়াশি জন মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে টানা বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার কাজ কয়েক দফায় ব্যাহত হয়েছে। পরবর্তীতে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার দল পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে বিভিন্ন সেনা ক্যাম্প ও অস্থায়ী উদ্ধারকেন্দ্রে ভিড় জমাচ্ছেন সর্বস্ব হারানো মানুষেরা। প্রিয়জনের জীবিত ফেরার আশায় পথ চেয়ে বসে থাকা এসব মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পাহাড়ের বাতাস। এর মাঝেই নতুন করে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে ভোতে কোশি নদী। নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নতুন করে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, হিমালয়ের অন্যপ্রান্তে তিব্বতের পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। সেখানে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। তবে চীনা কর্তৃপক্ষের কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণের বেড়াজালে তিব্বতের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও নিখোঁজদের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া বেশ দুরূহ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক ও তীব্র দুর্যোগের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা হিমালয় অঞ্চলের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে সুপেয় পানি, খাবার ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।









