জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ট্রাকের নিচে আটকে ২০০ মিটার ছুটল প্রাইভেট কার

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার পর ট্রাকের নিচে আটকে থাকা একটি প্রাইভেট কারকে প্রায় ২০০ মিটার টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বড় দারোগারহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রাইভেট কারটির চালক ও মালিক তানভীর হোসেন সামান্য আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারটি ট্রাকের সামনের অংশের নিচে আটকে যায়। কিন্তু ট্রাকটি সঙ্গে সঙ্গে থামেনি। বরং চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় মহাসড়ক ধরে কারটিকে টেনেহিঁচড়ে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। এ সময় সড়কে থাকা পথচারী ও আশপাশের লোকজন ট্রাকটি থামানোর জন্য চিৎকার করতে থাকেন। কয়েকজন ট্রাকটির পেছনে ছুটেও যান।

ঘটনাটি ঘটে হাক্কানী পেট্রলপাম্পের পাশের মহাসড়কের একটি ইউ টার্নে। হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তানভীর হোসেন ইউ টার্ন দিয়ে প্রাইভেট কারটি ঘোরাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই চট্টগ্রামমুখী একটি দ্রুতগতির ট্রাক এসে কারটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রাইভেট কারটি ট্রাকের সামনের অংশে আটকে যায়।

ধাক্কার পর ট্রাকের চালক দ্রুত গতি কমাতে না পারায় বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আটকে থাকা কারটি ট্রাকের সঙ্গে ঘর্ষণ খেতে খেতে প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত এগিয়ে যায়। এতে প্রাইভেট কারটির সামনের ও পাশের বিভিন্ন অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। তবে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। কারটির চালক তানভীর হোসেন সামান্য আহত হন। পরে তাঁর স্বজনেরা তাঁকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যান।

দুর্ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ট্রাকের সামনের অংশের নিচে প্রাইভেট কার আটকে রয়েছে এবং সেটি মহাসড়ক ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি দেখে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে ট্রাকচালককে থামার জন্য চিৎকার করছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুতই তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

খবর পেয়ে কুমিরা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাক ও প্রাইভেট কারটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাঁকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

কুমিরা হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক মোবারক হোসেন জানান, ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেট কার আটকে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যান জব্দ করা হয়। আহত ব্যক্তিকে তাঁর স্বজনেরা চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন এ পথে চলাচল করে। ফলে মহাসড়কের ইউ টার্ন ও সংযোগস্থলে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে ছোট যানবাহনের সংঘর্ষের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। বিশেষ করে ইউ টার্ন নেওয়ার সময় চালকদের গতি, দূরত্ব ও বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

মিরসরাইয়ের এ ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও দুর্ঘটনার পর কারটিকে প্রায় ২০০ মিটার টেনে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ তদন্ত শেষ করার পর সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ, চালকদের ভূমিকা এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর