মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় আকস্মিক মাটি খুঁড়তে গিয়ে ১০টি ল্যান্ডমাইন সদৃশ বস্তু ও পাঁচটি খালি বক্স উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত জমিতে এই বিপজ্জনক বস্তুগুলো দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আবুল মালিথার ছেলে কাঁদো মালিথা নিজ জমিতে স্বাভাবিক কৃষিকাজের জন্য মাটি খনন করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে তার কোদলে ধাতব কোনো বস্তুর শক্ত আঘাত লাগে। কৌতূহলী হয়ে তিনি আরও একটু গভীরে মাটি খুঁড়লে একে একে বেরিয়ে আসে ল্যান্ডমাইন সদৃশ ভারী ১০টি বস্তু এবং তার সাথে থাকা পাঁচটি খালি বাক্স। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক ও আতঙ্কিত জনতা ভিড় জমাতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা দ্রুত গাংনী থানায় খবর দেন।
খবর পাওয়া মাত্রই বামুন্দী পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো আসলেই সক্রিয় ল্যান্ডমাইন কি না, নাকি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা অতীতের কোনো সংঘাতের ফেলে যাওয়া পুরনো ও নিষ্ক্রিয় কোনো বিস্ফোরক—তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। যেহেতু বস্তুগুলোর প্রকৃতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো প্রকার কৌতূহলবশত কাছে না গিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) শিমুল কুমার দাস গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুরো এলাকাটি কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বস্তুগুলোর আসল রহস্য উদ্ঘাটন এবং সুরক্ষার জন্য রাজধানী বা নিকটস্থ কোনো বিশেষায়িত বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে ইতোমধ্যে খবর দেওয়া হয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তল্লাশি চালিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন এবং বস্তুগুলো নিরাপদে অপসারণ বা ধ্বংস করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
মন্তব্য