জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৫ পিএম

ভারতে চন্দিপুরা ভাইরাসের সংক্রমণে অন্তত ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশটির সরকার গুজরাট ও রাজস্থানে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ন্যাশনাল রেসপন্স টিম (এনআরটি) মোতায়েন করেছে।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে এই বিশেষ দল স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। বুধবার (৫ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।
চন্দিপুরা ভাইরাস মূলত বর্ষাকালে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বালুমাছি, মশা এবং অন্যান্য বাহক পোকামাকড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এর সংক্রমণ দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এবারের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতের গুজরাট রাজ্য। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানশেরিয়া জানিয়েছেন, ভাইরাস শনাক্তের জন্য এ পর্যন্ত ১৮৪ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে চন্দিপুরা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। ভাইরাসটির দ্রুত প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্তদের অবস্থার অবনতি অল্প সময়ের মধ্যেই হতে পারে। এ কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গুজরাটের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজস্থানেও ভাইরাসটির সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। গত মাসে রাজস্থানে চন্দিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত অঞ্চলে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি বাড়ি নজরদারি, সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত পরীক্ষা, মশা ও অন্যান্য বাহক পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চন্দিপুরা ভাইরাসের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের মধ্যে হঠাৎ জ্বর, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক আচরণ, দুর্বলতা বা স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চন্দিপুরা ভাইরাস নতুন কোনো রোগ নয়। ভারতে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এর সংক্রমণ দেখা গেছে। তবে শিশুদের মধ্যে উচ্চ মৃত্যুহারের কারণে প্রতিবারই এর প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
মন্তব্য