জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৯ পিএম

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টুয়ার্ডের ব্যাগ থেকে ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। এ ঘটনায় মো. মাহাবুর রহমান (২০) নামে ওই স্টুয়ার্ডকে আটক করা হয়েছে। র্যাবের দাবি, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
আটক মাহাবুর রহমান জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নলছিয়া গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার র্যাব-৭-এর পক্ষ থেকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
র্যাব জানায়, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে ইয়াবার একটি চালান পরিবহন করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেয় র্যাবের একটি দল। সোমবার বিকেলে দলটি স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নেয়। পরে বিকেল ৪টা ২ মিনিটের দিকে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে র্যাব সদস্যরা সন্দেহভাজন ব্যক্তির ওপর নজরদারি শুরু করেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনের ‘জ’ বগি থেকে নামার সময় মাহাবুর রহমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি কালো কাঁধের ব্যাগে তল্লাশি চালানো হলে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৪ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে র্যাব।
অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তবে ইয়াবাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। একই সঙ্গে এই চালানের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, ইয়াবাসহ আটক মাহাবুর রহমানকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদক পরিবহনে রেলপথ ব্যবহার নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দীর্ঘদিনের। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ থাকায় আন্তনগর ট্রেনগুলোতে যাত্রী ও মালামালের চলাচলও ব্যাপক। এ কারণে মাদকদ্রব্যের অবৈধ পরিবহন ঠেকাতে বিভিন্ন সময়ে রেলস্টেশন ও ট্রেনে অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পরিচালিত এই অভিযানও সেই নজরদারির অংশ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। মামলার তদন্তে ইয়াবার উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য