জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৪২ পিএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় এক নারীর বাড়ি থেকে জহিরুল ইসলাম (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (৩ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের গইজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সোমবার রাতে জহিরুল ইসলামকে ওই নারীর ঘরের ভেতর থেকে আটক করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে বাড়ির বারান্দার একটি খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যেতে পারেনি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জহিরুল ইসলাম ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, জহিরুল ইসলামের আগে চারটি বিয়ে হয়েছে। পাশাপাশি তিনি এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত বলেও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, জহিরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা দেখা গেলেও জেলা পর্যায়ের দলীয় নেতারা তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, জহিরুল ইসলাম দলের কোনো সদস্য নন এবং সংগঠনে তার কোনো পদও নেই। তিনি ব্যক্তিগতভাবে দলটির একজন সমর্থক হয়ে থাকতে পারেন বলে তারা জানিয়েছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ফলে অভিযোগ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা বা নির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও জহিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। বর্তমানে তারা থানায় রয়েছেন। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হবে। এর আগে স্থানীয়দের দাবি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনার ভিত্তিতে কাউকে কোনো অপরাধে অভিযুক্ত করা যাবে না বলেও আইনগতভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
মন্তব্য