,

কাঁঠাল পাতা কুড়ানো নিয়ে বিরোধে শিশুহত্যা, ৩ জনের যাবজ্জীবন

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কাঁঠালগাছের পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাত বছরের শিশু সুমনকে হত্যার মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আলামত গোপন করার দায়ে প্রত্যেককে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন বুধবার দুপুরে আদালতে এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সরিষাবাড়ী উপজেলার মাগুরিয়াপাড়া এলাকার আবুল কাশেম, মুকাদ্দেস ও স্বপন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মাগুরিয়াপাড়া এলাকায় কাঁঠালগাছের পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে সবুজা বেগমের সঙ্গে আসামিদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি মারামারিতে গড়ায়। সবুজা বেগমকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর দেবর বাবুল মিয়াকেও মারধর করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই বাবুল মিয়ার সাত বছরের ছেলে সুমন নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পাননি। পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর দুই দিন পর, ৫ সেপ্টেম্বর সকালে চাপারকোনা বাজারসংলগ্ন ঝিনাই নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে সামনে আসে। নিহত সুমনের বাবা বাবুল মিয়া পাঁচজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া।

মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের বক্তব্য, মামলার নথিপত্র এবং অন্যান্য উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আলামত গোপন করার অপরাধে তাদের প্রত্যেককে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) দিদারুল ইসলাম দিদার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

২০১১ সালে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হতে প্রায় দেড় দশক সময় লেগেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত শিশুটির পরিবার। পরিবারের সদস্যদের আশা, এই রায়ের মধ্য দিয়ে সুমন হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।

শিশু সুমন হত্যার এই ঘটনা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল। সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হলেও তা শেষ পর্যন্ত একটি শিশুর প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে। আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে এখন সেই ঘটনার বিচারিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।