জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুলাই ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কিয়েভের এই সামরিক অভিযানকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে রাশিয়া। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মস্কো স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানি জাহাজে এই হামলা মূলত ইরান রাষ্ট্রকে আক্রমণেরই নামান্তর।
এক বিবৃতির মাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার ভৌগোলিক পরিধি বিপজ্জনকভাবে বিস্তৃত করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, কাস্পিয়ান সাগরের মতো কৌশলগত অঞ্চলে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হেনে কিয়েভ সরকার তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সীমানা আরও বড় করছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের বেপরোয়া পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে এবং এ জাতীয় কর্মকাণ্ড অবিলম্বে নির্মূল করা প্রয়োজন।
মস্কো আরও অভিযোগ করেছে যে ইউক্রেন সামরিক লক্ষ্যবস্তুর সীমানা ছাড়িয়ে প্রায়ই আন্তর্জাতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করার পথ বেছে নিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউক্রেনের পূর্ববর্তী নানা বিতর্কিত তৎপরতার কথা টেনে এনে বলেন, কিয়েভ এর আগেও জার্মানির নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন ধ্বংস করেছে এবং কাজাখস্তানের সিপিসি পাইপলাইন পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে অঞ্চলের একাধিক দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ বিপর্যস্ত করেছে।
সম্প্রতি কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার আস্ত্রাখান বন্দর থেকে ইরানের আনজালি বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা জাহাজটির ব্রিজে বিস্ফোরণ ঘটলে এক নাবিক প্রাণ হারান এবং অপর একজন মারাত্মকভাবে আহত হন।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিরমির জেলেনস্কি হামলাকে নিজস্ব প্রতিরক্ষামূলক কৌশল বলে সাফাই দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কাস্পিয়ান সাগরের বুকে তারা কেবল সেই সকল জলযানকে নিশানায় পরিণত করেছেন, যেগুলো সরাসরি রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম বা অস্ত্র পরিবহনে যুক্ত ছিল।
অন্যদিকে, নিজেদের সমুদ্রসীমা ও বাণিজ্যিক জাহাজে এমন হামলায় তেহরানজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ ঘটনাকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে জানান, আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কিয়েভ যে অবিবেচকের মতো কাজ করেছে, তার জন্য উপযুক্ত ও কঠিন মূল্য দিতে হবে। ঘটনার পর ইরান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে সংঘাত বাড়ানোর পেছনে ইউক্রেনের দূরভিসন্ধিকে দায়ী করেছে।
একই সুরে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটি। কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি সাফ জানিয়েছেন, সার্বভৌমত্ব কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ইরান কখনোই কোনো শক্তির সামনে নতি স্বীকার করবে না। কাস্পিয়ান সাগরে এই হামলার যথাযথ ও কার্যকর জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সংঘাতের জল এভাবে নতুন অঞ্চলে গড়ালে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়ে এখন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রবল উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য