জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুলাই ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম

নরসিংদীর শিবপুরে দরিদ্র ও অসহায় নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে গভীর রাতে ডেকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আশরাফ উদ্দিন আকন্দ, যিনি শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ভুক্তভোগী নারী গণমাধ্যমের সামনে পুরো বিষয়টি প্রকাশ করার পর স্থানীয় রাজনীতিসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় তহবিল থেকে অসহায় পরিবারের জন্য বরাদ্দ ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি ত্রাণসুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন আশরাফ উদ্দিন। তবে শর্ত হিসেবে তাকে রাত ১২টার দিকে গ্রামের একটি নির্জন পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলা হয়। নারীর ভাষ্যমতে, ইতিপূর্বেও ওই বিএনপি নেতার অনুচিত ও অনৈতিক দাবিতে সাড়া না দেওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আসা দুস্থদের সহায়তা থেকে তাকে বারবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি অভিযোগসংবলিত এই বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা পুরো শিবপুরজুড়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রান্তিক পরিবারের মানুষের ক্ষুধা ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যারা এমন অনৈতিক মানসিকতার পরিচয় দেয়, তারা সমাজে মারাত্মক বিষফোড়া। রাজনৈতিক পদ-পদবি ব্যবহার করে কোনো অসহায় নারীর ওপর চাপ সৃষ্টির এ জাতীয় ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এলাকার সচেতন মহল অনতিবিলম্বে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তার বক্তব্য, রাজনৈতিকভাবে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও হেয় করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত প্রায় পাঁচ মাস আগে তার পা ভেঙে যায় এবং তিনি এখনো পুরোপুরি হাঁটাচলা করতে অক্ষম। শারীরিক এই অবস্থায় গভীর রাতে কারো সঙ্গে গিয়ে দেখা করার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। গত রোজার ঈদের সময় তিনি আশরাফ উদ্দিনের কাছে কাপড় ও চালের বিশেষ স্লিপ চেয়েছিলেন। পর্যাপ্ত স্লিপ না থাকায় তখন তাকে সাহায্য করা সম্ভব হয়নি। সেই আক্রোশ থেকেই স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্ররোচনায় পড়ে ওই নারী তার বিরুদ্ধে মনগড়া ও মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযুক্ত নেতার দাবি।
সংবেদনশীল এই রাজনৈতিক বিষয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে কড়া নজরাদারির কথা জানানো হয়েছে। শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং বিষয়টির ভয়াবহতা অনুধাবন করে তারা এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। অভিযুক্ত নেতা ব্যক্তিগতভাবে দলীয় নেতাদের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
জাকির হোসেন স্পষ্ট করেন, তদন্তে যদি আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সামান্যতম সত্যতাও পাওয়া যায়, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি করা হবে। আবার একইভাবে, দলীয় প্রধানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে যদি কোনো পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে পুরো শিবপুর পৌর এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে নানা সমীকরণ ও আলোচনা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই চাওয়া—ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রেখে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে যেন একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালিত হয়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই আসল রহস্য উন্মোচিত হবে এবং প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
মন্তব্য