খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুলাই ২০২৬, ৫:৪৬ পিএম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী দেওয়া এই পদত্যাগের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়েছে। সাংবিধানিক বিধান অনুসারে, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর দায়িত্ব পালন, দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতিতে নিজের ভূমিকা এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি লিখেছেন।
চিঠিতে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে একটি শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চান। পরে আপিল বিভাগের পরামর্শের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।
রাষ্ট্রপতি তাঁর চিঠিতে আরও বলেন, ওই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয় এবং বর্তমানে সরকার ও বিরোধী দল সংসদে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে।
নিজের ভূমিকার মূল্যায়ন করতে গিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, দেশের সংকটময় সময়ে তাঁর সুদৃঢ় ও ইতিবাচক অবস্থানের কারণে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি বলে তিনি মনে করেন।
তবে পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস অস্ত্রোপচারও হয়েছে। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক জটিল রোগের কারণে তাঁর শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এমন অবস্থায় রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
এসব কারণ বিবেচনায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসরণ করে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেন। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ও শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য