খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ৬:১৯ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে প্রাইভেট কার হারিয়েছেন এক দর্শক। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর-সংলগ্ন এলাকায় রাখা গাড়িটি মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পরিকল্পিতভাবে চুরি করে নিয়ে যায় একটি চক্র। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজে চুরির পুরো প্রক্রিয়ার কিছু দৃশ্য ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ভুক্তভোগী হাফিজার রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করতে যান। ওই সময় বিশ্বকাপের খেলা দেখতে টিএসসি এলাকায় বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম হয়েছিল। রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি রোকেয়া হলের পাশের নির্ধারিত স্থানে তার প্রাইভেট কারটি রেখে খেলা দেখতে যান।
প্রায় ২০ মিনিট পর ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, নির্দিষ্ট স্থানে গাড়িটি আর নেই। প্রথমে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান।
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, তিন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে দুজন মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং আরেক ব্যক্তি চুরি করা প্রাইভেট কারটি চালিয়ে নীলক্ষেতের দিকে চলে যায়।
ভুক্তভোগী জানান, পুরো ঘটনাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটেছে। চোরেরা আগে থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে গাড়ি চুরির পরিকল্পনা করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। জনসমাগমপূর্ণ একটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার পরদিন সকালে হাফিজার রহমানের বাবা সামসুল হক শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। পরে তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়।
হাফিজার রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তিনি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস এলাকায় চলাফেরা করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে এভাবে প্রাইভেট কার চুরির ঘটনা আগে কখনো শোনেননি।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, ভুক্তভোগীকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন নজরদারি ক্যামেরা স্থাপনের একটি প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রযুক্তি চালু হলে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি উদ্ধারের পাশাপাশি চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
মন্তব্য