জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

চলতি বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর পক্ষপাতিত্ব ও ম্যাচ কারচুপির (ফিক্সিং) অভিযোগ এনে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) কাছে আনুষ্ঠানিক ও লিখিত দাবি জানিয়েছে মিশর ফুটবল ফেডারেশন (EFA)। মাঠের লড়াইয়ে জয়ের খুব কাছে গিয়েও রেফারিংয়ের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে ফারাওদের। এই হারকে কেবলই মাঠের ভাগ্য না মেনে, এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছে উত্তর আফ্রিকার এই ফুটবল পরাশক্তি।
Table of Contents
নকআউট পর্বের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে আক্রমণের পসরা সাজিয়ে ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট যখন তাদের হাতের মুঠোয়, ঠিক তখনই নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যে পরপর ৩টি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। তবে আর্জেন্টিনার এই রূপকথার জয়ের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে ম্যাচজুড়ে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের কিছু বিতর্কিত ও একপেশে সিদ্ধান্ত।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই মিশর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ে এবং তার সহকারী রেফারিং প্যানেলের বিরুদ্ধে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন। অভিযোগপত্রে মিশর সুনির্দিষ্টভাবে দুটি ঘটনার উল্লেখ করেছে— প্রথমত, মিশরের একটি নিশ্চিত ও বৈধ গোল বাতিল করা এবং দ্বিতীয়ত, ডি-বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলেও ভিএআর (VAR) প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও পেনাল্টির দাবি নাকচ করে দেওয়া। ইএফএ-র স্পষ্ট দাবি, ফরাসি রেফারি ও তার দল এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয় এবং মিশরের বিদায় নিশ্চিত করতে ‘নির্ণায়ক’ ভূমিকা পালন করেছেন।
মিশরের বাতিল হওয়া গোলটি করেছিলেন দলের তারকা মিডফিল্ডার মোস্তফা জিকো। ম্যাচ শেষে মিশ্র জোনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রেফারি শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছিলেন। তবে সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যটি এসেছে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের কাছ থেকে। রেফারি সরাসরি ম্যাচ কারচুপি করেছেন দাবি করে তিনি বলেন:
“ফিফা স্রেফ তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড ভ্যালু ধরে রাখার জন্য লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতে চায়। রেফারি মাঠের ভেতর সেই এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করেছেন।”
মিশরীয় ফেডারেশন এই সব বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত দাবি করার পাশাপাশি, টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে ফরাসি রেফারি লেটেক্সিয়েকে অবিলম্বে বহিষ্কার করার জন্য ফিফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
মিশরের এই অভিযোগের পর চলতি বিশ্বকাপের রেফারিং সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করল। এর আগেও বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন এবং ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফার (UEFA) মতো বড় সংস্থাগুলো এবারের টুর্নামেন্টে ম্যাচ পরিচালনার মান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বমঞ্চে রেফারিংয়ের এমন নিম্নমান এবং প্রযুক্তির ভুল ব্যবহার ফুটবল খেলাটির স্বচ্ছতা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে মিশরসহ পুরো ফুটবল বিশ্ব এই বিষয়ে ফিফার আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য