খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ৭:৭ পিএম

বগুড়া শহরে একটি পথকুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শহরের বকশিবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশের প্রচলিত প্রাণী কল্যাণ আইন অমান্য করে অবলা প্রাণীর ওপর এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও পশুপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. স্বপন। তিনি শহরের রহমাননগর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন আসবাবপত্র ব্যবসায়ী। এর আগে সোমবার রাতেই দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা ও প্রাণী কল্যাণ আইনে মামলাটি করেন ‘বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ (বাওয়া) বগুড়া শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে বাওয়ার প্রতিনিধি এমরান হোসেন খবর পান যে কানছগাড়ী এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি গলিতে একটি কুকুর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে একটি সাদা-কালো রঙের পথকুকুরকে গুরুতর জখম অবস্থায় ড্রেনের ভেতর কাতরাতে দেখেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় দুই যুবক এস এম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহায়তায় কুকুরটিকে উদ্ধার করা হয়। ড্রেন থেকে তুলে সেটিকে দ্রুত জলেশ্বরীতলা এলাকার একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
কুকুরটির শরীরের ক্ষত গভীর হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাসহ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি সমন্বিত চিকিৎসক দল কুকুরটির জরুরি চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। চিকিৎসকরা জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কুকুরটির শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল।
জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর প্রাণীটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে সেটি প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
মামলার বাদী এমরান হোসেন জানান, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, ব্যবসায়ী স্বপন কোনো কারণ ছাড়াই সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুকুরটিকে আঘাত করেন। রক্তাক্ত প্রাণীটি বাঁচার জন্য চিৎকার করতে করতে ড্রেনে গিয়ে পড়ে।
আহত কুকুরটির চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আইনি পরামর্শ করার কারণে মামলা করতে কয়েক ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী। পশুপ্রেমীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্বরোচিত এই ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়। মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানোর কাজ চলছে।
মন্তব্য