
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় মাদকবিরোধী একটি সভাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, মহেশ্বরদী গ্রামের এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ছিরু মিয়া, কালাম কাজী, জাহিদ শেখ, মিরাজ মাতুব্বর ও বাকি মাতুব্বর। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন খোকন মিয়া চেয়ারম্যান, মোকসেদ খালাসী, ইলিয়াস মাতুব্বর ও বাদল মাতুব্বর।
এর আগে শুক্রবার কালাম কাজীর বাড়িতে একটি মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন শনিবার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদে আরও একটি সভা হয়। এসব সভা ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তৈরি হয়। এক পক্ষের দাবি, সভার আড়ালে কিছু ব্যক্তি নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেছে। অন্য পক্ষের দাবি, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত না থেকেও কিছু লোক সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি জটিল করেছে।
এই বিরোধের জেরে শনিবার সন্ধ্যায় সভা শেষ হওয়ার পর ছিরু মিয়ার পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের সমর্থক দেলোয়ারের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় তাকে মারধর করা হয় এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে।
এর পরদিন রোববার সকালে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খোকন মিয়া চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন ছিরু মিয়ার পক্ষকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সরকি, টেঁটা, তলোয়ার এবং ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আকতার মাতুব্বর, রিয়াদ মাতুব্বর ও মামুন মাতুব্বরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া জানান, মাদকবিরোধী সভায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তার মতে, ওই ঘটনার জের ধরেই পরবর্তী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
অন্যদিকে ছিরু মিয়া দাবি করেন, মাদকবিরোধী সভার নামে খোকন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মাদককারবারিদের একত্রিত করা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষ আর না ঘটে।
> ব্যস্ত মহাসড়কে প্রেমিকের গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
> যুবদল নেতার ইয়াবা সেবনের দৃশ্য ভাইরাল
> হাম উপসর্গে শিশুমৃত্যু বেড়েই চলেছে
> প্রকল্প বরাদ্দে এমপির স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
> বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের সময়সূচি ও চূড়ান্ত সমীকরণ
> ট্রাম্পের নতুন হুমকিতে ফের উত্তপ্ত ইরান সংকট
> কক্সবাজারে নিখোঁজ পর্যটক সায়েমের মরদেহ উদ্ধার
> স্মরণ আঁধারের আলোকবর্তিকা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম
> কার্বন ক্রেডিট বিক্রি: ২৫ কোটি গাছ রোপণে বাংলাদেশের বিলিয়ন ডলারের আয়ের সম্ভাবনা
> লোকসান সইতে না পেরে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ
> প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক সংকটে সরকারের আপাত সমাধান পরিকল্পনা
> কারওয়ান বাজার ক্যামেরা গুজব খণ্ডন
> হাম পরিস্থিতি: শিশু মৃত্যু উদ্বেগ বাড়ছে
> মার্কিন সাহায্য ছাড়া কি রক্ষা পাবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব?
> বীমা খাতে এআই ব্যবহারে নজরদারি বাড়াচ্ছে ভারত
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য