রাজশাহী কলেজে মাস্টার্স শেষ বর্ষের মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সামনে থেকে তাকে শনাক্ত করে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তির নাম সজিব আলী (২৪)। তিনি রাজশাহী মহানগরের শাহ মখদুম থানার শতিহার এলাকার চর শ্যামপুর গ্রামের মুজাম্মেল হকের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি কাটাখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নরত।
ঘটনার দিন নির্ধারিত মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি কলেজে উপস্থিত হন। ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর কিছু শিক্ষার্থী তাকে চিনে ফেলেন বলে জানা যায়। এরপর বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে ধরে বিভাগের সামনে অবস্থান নেন এবং পরে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি কিছুটা অস্থির হয়ে উঠলেও কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। এতে ক্যাম্পাসে সাময়িকভাবে চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে কোনো ধরনের বড় ধরনের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমা মুস্তারি জানান, সজিব আলীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং তার পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও আলোচনা চলতে থাকে। অনেক শিক্ষার্থী এ ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ক্যাম্পাসে আরও সতর্ক নজরদারির দাবি জানান। তবে প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরে স্বাভাবিক হয়ে যায়।
বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুলিশ বলছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্তব্য