বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা রাশেদ খাঁন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, এই রাজনৈতিক দলটির আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে চাঁদাবাজি। গত মঙ্গলবার, ২৬ মে দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুতর রাজনৈতিক অভিযোগটি উত্থাপন করেন।
অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ও নেতাদের সমালোচনা
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং দলীয় কার্যালয়ের অর্থায়ন নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “বিএনপি নেতা এ্যানি ভাই কোরবানি দিচ্ছেন—এই নিয়ে আপনারা প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু আপনারা নিজেরা রূপায়নে একটি বড় অফিস নিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া দিচ্ছেন, সেই ভাড়ার বিপুল পরিমাণ টাকা আপনারা কোথায় পাচ্ছেন?” তিনি দলটির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চলাফেরা নিয়ে সমালোচনা করে বলেন যে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সার্বক্ষণিক দামি গাড়িতে ঘুরে বেড়ান এবং নিজের সাথে বিশেষ নিরাপত্তা প্রটোকল বা রক্ষীবাহিনী নিয়ে যাতায়াত করেন। এই বিশাল খরচের অর্থ কোন খাত থেকে আসে, সেই উৎস স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি। এর পাশাপাশি তিনি সারজিস আলম এবং নাহিদ ইসলামের আয়ের প্রকৃত উৎস কোথায়, তা নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে জনসমক্ষে প্রশ্ন তোলেন।
আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সাংগঠনিক কোন্দল
রাশেদ খাঁন তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সাথে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বা হাত নেই। এই বাণিজ্যিক চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি তথা এনসিপি করিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন যে, তিনি ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভুলে গিয়ে অমানুষের মতো আজেবাজে কথা বলছেন। ঝিনাইদহ জেলা সফরকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের সাথে অস্ত্রধারী ক্যাডার বা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসেছিলেন বলে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাঁর ওপরে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী হামলা করেনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের যেখানেই তিনি যাবেন, সেখানেই তাঁকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও হেনস্তার শিকার হতে হবে। বিএনপি কোনো হামলা করবে না, বরং দেশের সাধারণ জনগণই তাঁর মতো বেয়াদবদের শায়েস্তা করবে।
নিচে সংবাদ সম্মেলনে আলোচিত বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ ও প্রধান প্রধান অভিযোগসমূহ একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| রাজনৈতিক পক্ষ ও ব্যক্তির নাম | রাজনৈতিক পদ ও সাংগঠনিক পরিচয় | সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল বক্তব্য ও অভিযোগ |
| রাশেদ খাঁন | নেতা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) | জাতীয় নাগরিক পার্টির আয়ের মূল উৎস চাঁদাবাজি এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। |
| নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী | নেতা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) | দামি গাড়ি ও নিরাপত্তা প্রটোকল ব্যবহার এবং অস্ত্রধারী ক্যাডার রাখার অভিযোগ। |
| জামায়াতে ইসলামী | রাজনৈতিক দল | স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি এবং স্বৈরাচার সরকারের দোসর হিসেবে আখ্যা। |
| জহির হাসান মোহন | যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল | সংবাদ সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত রাজনৈতিক ব্যক্তি। |
| তবিবুর রহমান মিনি | সাবেক নেতা, উপজেলা বিএনপি | সংবাদ সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত রাজনৈতিক ব্যক্তি। |
জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, জামায়াত কখনোই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশের ক্ষমতায় আসতে পারবে না, কারণ তারা বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার বিরোধী একটি শক্তি। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত সব সময় অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার সরকারের দোসর হিসেবে পর্দার আড়াল থেকে কাজ করেছে। বর্তমানে তারা নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে পতনের ভয় দেখাচ্ছে উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি মিলে দেশের বিরুদ্ধে একযোগে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এই দুই অপশক্তিকে আর কখনোই রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করবে না। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির হাসান মোহন এবং কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা তবিবুর রহমান মিনি উপস্থিত ছিলেন।
