বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সঙ্গে দুই বছরের জন্য ‘ট্রেনিং অ্যান্ড গ্রোথ পার্টনার’ হিসেবে যুক্ত হয়েছে স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড গ্লো অ্যান্ড লাভলী। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে এই চুক্তির মাধ্যমে নারী ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এই পার্টনারশিপের ঘোষণা দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী আগামী দুই বছর জাতীয় নারী ফুটবল দলের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত থাকবে গ্লো অ্যান্ড লাভলী। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শারীরিক প্রস্তুতি এবং পেশাদার মান উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নারী ফুটবলের উন্নয়নে গ্লো অ্যান্ড লাভলী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তারা নারীদের আত্মনির্ভরতা ও ক্যারিয়ার গঠনে উৎসাহ দিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই জাতীয় নারী ফুটবল দলের সঙ্গে এই নতুন পার্টনারশিপ শুরু হলো।
চুক্তির আওতায় দলের অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম, ট্রেনিং কিট এবং বাফুফে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচিত যোগাযোগমাধ্যমে গ্লো অ্যান্ড লাভলীর ব্র্যান্ডিং থাকবে।
পার্টনারশিপের মূল দিকসমূহ
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| চুক্তির মেয়াদ | ২ বছর |
| পার্টনার প্রতিষ্ঠান | গ্লো অ্যান্ড লাভলী |
| অংশীদার সংস্থা | বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন |
| কার্যক্রম | প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন, সরঞ্জাম সহায়তা |
| ব্র্যান্ড উপস্থিতি | অনুশীলন কিট ও নির্বাচিত মিডিয়ায় |
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার, গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম ও মিডফিল্ডার উমেলা মারমা।
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিউটি অ্যান্ড ওয়েলবিং বিভাগের প্রধান জাহিন ইসলাম বলেন, গ্লো অ্যান্ড লাভলী দীর্ঘদিন ধরে নারীর দক্ষতা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে। এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে আগামী দুই বছর নারী ফুটবলারদের পাশে থেকে তাদের প্রশিক্ষণ ও বিকাশে সহায়তা করা হবে। তাঁর মতে, এই খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবেন।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, এই ধরনের পার্টনারশিপ নারী ফুটবলের উন্নয়ন ও স্বীকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নারী ফুটবল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করবে।
বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, এই উদ্যোগ বর্তমান খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ফুটবলে আগ্রহী করে তুলবে।
জাতীয় নারী দলের খেলোয়াড়রাও এই পার্টনারশিপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। সাফ জয়ী গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম গ্লো অ্যান্ড লাভলীকে ধন্যবাদ জানান। মিডফিল্ডার উমেলা মারমা বলেন, ভবিষ্যতেও এই ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করেন। অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, এটি দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ এবং আসন্ন প্রতিযোগিতায় এটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ইতিমধ্যে ২০২২ ও ২০২৪ সালে টানা দুইবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেছে। পাশাপাশি গত মার্চে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করে দলটি। বর্তমানে দলটি ব্যাংককে অষ্টম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আগামী ২১ মে ভারতীয় গোয়ায় যাবে।
