গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে আরও ৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই সময়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উভয়ই উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে কারও শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উপসর্গের ভিত্তিতেই এসব মৃত্যুকে হামের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে ঢাকায় ৩ জন, চট্টগ্রামে ২ জন এবং ময়মনসিংহে ১ জন শিশু মারা গেছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৩৪১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত মোট ৪১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৬৫ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, একই সময়কালে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে মোট ৫০ হাজার ৫০০ শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯৮০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩১ হাজার ৯৯২ শিশু। এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৩৭ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি শিশুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর চাপ তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা মনে করছেন। বিশেষ করে একাধিক অঞ্চলে একসঙ্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা বাড়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নিচে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মৃত্যুর অঞ্চলভিত্তিক তথ্য দেওয়া হলো—
| এলাকা | মৃত্যুর সংখ্যা |
|---|---|
| ঢাকা | ৩ |
| চট্টগ্রাম | ২ |
| ময়মনসিংহ | ১ |
| মোট | ৬ |
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারাবাহিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বড় আকারে বাড়লেও সুস্থ হয়ে ফেরার হারও উল্লেখযোগ্য। তবে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
চলমান এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা দ্রুত শনাক্তকরণ, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়েও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
