যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় একটি পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান এবং মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) সকাল ৮টার দিকে নাভারণ-সাতক্ষীরা সড়কের গিলাপোল নামক স্থানে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা উভয়ই উপজেলার উলাশি খালপাড় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও প্রেক্ষাপট
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহীনুর রহমান পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। সোমবার ভোরে তিনি নিজের ক্ষেত থেকে কাঁচা মরিচ সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নাভারণ বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। প্রতিবেশী তোজাম্মেল হোসেনের মোটরসাইকেলে চড়ে তিনি বাজারের দিকে রওনা হয়েছিলেন। মোটরসাইকেলটি যখন নাভারণ-সাতক্ষীরা সড়কের গিলাপোল এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা সাতক্ষীরাগামী একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সেটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক শাহীনুর রহমান ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আরোহী তোজাম্মেল হোসেন এসময় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। উপস্থিত জনতা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
ভুক্তভোগীদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | নাম | বয়স | পিতার নাম | ঠিকানা | মৃত্যুর স্থান |
| ১ | শাহীনুর রহমান | ৩৫ | জুলফিকার সিদ্দিক | উলাশি খালপাড়, শার্শা | দুর্ঘটনাস্থল |
| ২ | তোজাম্মেল হোসেন | ৪২ | মৃত আতিয়ার গাইন | উলাশি খালপাড়, শার্শা | উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক বক্তব্য
নাভারণ হাইওয়ে থানা পুলিশ দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোপাল কর্মকার গণমাধ্যমকে জানান যে, ঘটনার পর ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বর্তমানে নিহতদের মরদেহ শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। গিলাপোল এলাকায় এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নাভারণ-সাতক্ষীরা সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তারা সড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
নিহত শাহীনুর ও তোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যুতে উলাশি এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে জীবিকার তাগিদে বাজারে যাওয়ার পথে এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘাতক যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছে। মূলত বেপরোয়া গতি এবং অসতর্কতার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ এই সড়কের নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে গতিরোধক বা সতর্কতা চিহ্ন স্থাপনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে যান চলাচল নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কে স্বাভাবিক রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতদেহ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সড়কে জীবনের ঝুঁকি এবং সাবধানে গাড়ি চালানোর গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাইওয়ে থানা পুলিশের টহল দল বর্তমানে সড়কের ওই অংশে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে আদালতে প্রতিবেদন পেশ করবেন। নিহতদের পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শার্শা উপজেলা প্রশাসন এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আজ বিকেলের মধ্যেই যথাযথ মর্যাদায় মরদেহগুলো দাফনের জন্য পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতে পারে। মৃতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ বিশ্লেষণে কারিগরি দলও কাজ করতে পারে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
