গাজীপুর মহানগরীর একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ চলাকালীন হঠাৎ করে অন্তত ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ‘বাংলাদেশ প্যানএশিয়া ক্লদিং লিমিটেড’ নামক কারখানায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার বিবরণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ দেন। কাজ শুরু করার কিছু সময় পর কয়েকজন শ্রমিক হঠাৎ মাথা ঘোরানো এবং বমি বমি ভাব অনুভব করতে থাকেন। সময়ের সাথে সাথে অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং দ্রুতই তা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়ে যায়। অসুস্থদের মধ্যে শারীরিক দুর্বলতার লক্ষণও স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাদের দ্রুত গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকার তায়েরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মহানগরীর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অসুস্থতার প্রকৃতি ও চিকিৎসা
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া শ্রমিকদের বেশিরভাগই মাথা ঘোরানো, বমি এবং শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, এটি একটি বিশেষ ধরণের রোগ যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ বা ‘গণ-মানসিক রোগ’ বলা হয়। এটি সাধারণত অতিরিক্ত গরম, ভ্যাপসা পরিবেশ বা মানসিক চাপের কারণে কোনো একজনের অসুস্থতা দেখে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| তথ্যের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| কারখানার নাম | বাংলাদেশ প্যানএশিয়া ক্লদিং লিমিটেড |
| অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা | আনুমানিক ৫০ জন |
| অসুস্থতার প্রধান লক্ষণ | মাথা ঘোরানো, বমি ও শারীরিক দুর্বলতা |
| চিকিৎসার স্থান | শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ও তায়েরুন্নেছা হাসপাতাল |
| রোগের সম্ভাব্য কারণ | গণ-মানসিক রোগ বা মাস সাইকোজেনিক ডিজিজ |
| বর্তমান শারীরিক অবস্থা | আশঙ্কামুক্ত এবং স্থিতিশীল |
প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং অসুস্থ শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অসুস্থ শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বর্তমানে সবাই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
চিকিৎসা শেষে বেশিরভাগ শ্রমিকই প্রাথমিক ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। তবে পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েকজন শ্রমিককে হাসপাতালে রাখা হলেও তাদের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরণের অসুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী কোনো ক্ষতি করে না এবং দ্রুত চিকিৎসা পেলে রোগীরা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবেশ পরীক্ষা করে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই ঘটনার ফলে সাময়িকভাবে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
