ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর প্রধান কোচ এন্ডি ফ্লাওয়ারকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অসংযত আচরণ এবং অশালীন শব্দ ব্যবহারের কারণে তাকে এই শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। আইপিএল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, ফ্লাওয়ারকে তার একটি ম্যাচের নির্ধারিত পারিশ্রমিকের ১৫ শতাংশ অর্থ জরিমানা হিসেবে প্রদান করতে হবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উত্তেজনার কারণ
ম্যাচ চলাকালীন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ইনিংসের ১৭.২ ওভারে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সে সময় বোলার এএম গজনফরের বলে মুম্বাইয়ের ব্যাটার ক্রুনাল পান্ডিয়ার একটি শটকে কেন্দ্র করে বাউন্ডারি লাইনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বলটি ওয়াইড লং-অন সীমানার দিকে গেলে ফিল্ডার নমন ধীর সেটি তালুবন্দি করেন। তবে সীমানা দড়ির খুব কাছে থাকায় তিনি বলটি তিলক ভার্মার দিকে ছুড়ে দেন। তিলক ভার্মা ক্যাচটি ধরার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন না, কারণ তার ধারণা ছিল নমন ধীরের পা সীমানা কুশন স্পর্শ করেছে এবং এটি ছক্কা হয়ে গেছে।
পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তায় রিপ্লেতে দেখা যায় যে, নমন ধীর বল ছোড়ার সময় সীমানা দড়ি বা কুশন স্পর্শ করেননি। আম্পায়াররা পরিস্থিতির বিচার করে ওই ডেলিভারি থেকে কোনো রান না হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্তটি মানতে পারেননি বেঙ্গালুরু শিবিরের প্রধান কোচ এন্ডি ফ্লাওয়ার।
আইপিএল আচরণবিধি ও শাস্তির সারণি
এন্ডি ফ্লাওয়ারের বিরুদ্ধে আইপিএল আচরণবিধির ‘স্তর-১’ (লেভেল ওয়ান) ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ করে ধারা ২.৩ লঙ্ঘনের দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা মূলত খেলা চলাকালীন অশালীন ভাষা ব্যবহারের শাস্তির বিধান রাখে।
শাস্তি ও অপরাধের বিবরণ সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো:
| অপরাধের বিষয় | লঙ্ঘিত ধারা | সাজার পরিমাণ |
| অশালীন শব্দ ব্যবহার | ধারা ২.৩ | ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ |
| আচরণের পর্যায় | স্তর – ১ | বাধ্যতামূলক জরিমানা |
| অপরাধের প্রকৃতি | শ্রবণযোগ্য অশ্লীল শব্দ | চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত |
ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্ত ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি ঘটার পরপরই ডাগআউট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এন্ডি ফ্লাওয়ার চতুর্থ আম্পায়ারের কাছে গিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলেন এবং উত্তেজিত অবস্থায় অশালীন শব্দ ব্যবহার করেন। ম্যাচ শেষে ম্যাচ রেফারি অমিত শর্মা এই বিষয়ে শুনানি পরিচালনা করেন। এন্ডি ফ্লাওয়ার নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং রেফারির দেওয়া শাস্তি মেনে নিয়েছেন।
আইপিএলের নিয়মাবলী অনুসারে, স্তর-১ পর্যায়ের অপরাধের ক্ষেত্রে ম্যাচ রেফারি যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়। এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকে না। ক্রিকেটের মার্জিত পরিবেশ বজায় রাখতে এবং আম্পায়ারদের মর্যাদা রক্ষায় আইপিএল কর্তৃপক্ষ এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
এন্ডি ফ্লাওয়ার একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও তার এই আচরণ ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে নেতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাঠের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিচারকদের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা খেলোয়াড় ও কোচ উভয়ের জন্যই অপরিহার্য। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পক্ষ থেকে এই শাস্তির বিষয়ে নতুন করে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি, ফলে জরিমানার আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। খেলার মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি অন্য সকল দল ও কর্মকর্তাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মূলত খেলার গতিশীলতা এবং আম্পায়ারদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে আইপিএল কর্তৃপক্ষ শূন্য সহনশীলতার নীতিতে বিচার করে থাকে।
