স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশের পুলিশ বাহিনীর বর্তমান পোশাক নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ওঠা অসন্তোষ ও মতামত পর্যালোচনা করে সরকার এর আংশিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোশাকের উপরের অংশ হিসেবে বিদ্যমান গভীর নীল রঙের শার্ট অপরিবর্তিত রাখা হবে। তবে নিচের অংশে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যেখানে সামরিক ধাঁচের বাদামি-ধূসর রঙ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পোশাক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ঐতিহ্য, ব্যবহারিক সুবিধা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন পোশাক সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করতে কিছু সময় প্রয়োজন হবে। কারণ এর সঙ্গে কাপড় প্রস্তুত, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের বিষয় জড়িত। ধাপে ধাপে সারা দেশে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হবে।
পোশাক পরিবর্তনের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | পূর্বের অবস্থা | নতুন সিদ্ধান্ত |
|---|---|---|
| উপরের অংশ | গভীর নীল শার্ট | অপরিবর্তিত থাকবে |
| নিচের অংশ | পূর্ব নির্ধারিত রঙ | বাদামি-ধূসর সামরিক রঙ |
| বাস্তবায়ন পদ্ধতি | প্রচলিত ব্যবহার | ধাপে ধাপে সারা দেশে কার্যকর |
| প্রস্তুতি অবস্থা | পূর্ণ ব্যবহারে ছিল | কাপড় প্রস্তুত ও সরবরাহ প্রক্রিয়াধীন |
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুলিশ প্রশাসনের সাম্প্রতিক বদলি, নিয়োগ ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, এসব কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিয়মিত মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, পূর্ববর্তী সময়ে প্রশাসনিক কিছু দুর্বলতার কারণে কিছু জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার তা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশে চলমান মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজি দমনে ১ মে থেকে সারাদেশে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান। এই অভিযানে পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। মূল লক্ষ্য হলো বড় মাদক চক্র, অস্ত্র চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া। সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে।
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার ও টেকনাফ অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছে। তাদের নিরাপত্তা, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া তিনি জানান, সম্প্রতি সংসদ অধিবেশন শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে সম্পন্ন হওয়া একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। অন্যদিকে এক সাংবাদিককে বিদেশে যেতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
