অংকনের ‘বড়াই করে’ গানের কাহিনি

ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’-এ ব্যবহৃত গানটি নিয়ে সংগীতশিল্পী অংকন কুমার বর্তমানে আলোচনায় রয়েছেন। গানটির কথা, সুর এবং কণ্ঠ—সবকিছুই তার নিজের সৃষ্টি হলেও শুরুতে এটি তার জন্য তৈরি করা হয়নি। পরবর্তীতে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গানটি তার কণ্ঠে প্রকাশ পায় এবং দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

গানটি প্রথমে সংগীত প্রযোজক জাহিদ নিরবের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সুর তৈরির সময়ও তাকে মাথায় রেখে কাজ করা হয়। তবে পরে জাহিদ নিরব নিজে গানটি না গেয়ে অংকন কুমারকে গাওয়ার অনুরোধ জানান। তার ধারণা ছিল, অংকনের কণ্ঠে গানটি আরও বেশি মানানসই হবে। সেই অনুরোধের ভিত্তিতেই অংকন গানটি পরিবেশন করেন।

পরবর্তীতে চলচ্চিত্র নির্মাতা রায়হান রাফির টিমের সঙ্গে গানটি নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সময় ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রের শুটিং চলছিল। আলোচনা শেষে গানটি চলচ্চিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা গানটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

গত একুশ মার্চ গানটির চিত্র প্রকাশিত হয় একটি জনপ্রিয় অনলাইন চিত্রভাণ্ডার প্ল্যাটফর্মে। প্রকাশের পর থেকেই এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। দেড় মাসের মধ্যে এটি প্রায় দশ লাখ বার দেখা হয়েছে। প্রেমিক-প্রেমিকার আবেগ, আকুতি ও অনুভূতিকে কেন্দ্র করে গানটি তৈরি হওয়ায় শ্রোতাদের মধ্যে গভীর সাড়া সৃষ্টি হয়। অনেক শ্রোতা মন্তব্যে ব্যক্তিগত জীবনের অনুভূতির সঙ্গে গানটির মিল খুঁজে পেয়েছেন।

গান সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
গানটির নামবড়াই করে
শিল্পীঅংকন কুমার
গীত, সুর ও কণ্ঠঅংকন কুমার
চলচ্চিত্রপ্রেশার কুকার
প্রথম প্রকাশ মাধ্যমঅনলাইন চিত্রভাণ্ডার প্ল্যাটফর্ম
প্রকাশের সময়একুশ মার্চ
দেখা হয়েছে (প্রায়)দশ লাখ বার

অংকন কুমার সংগীতাঙ্গনে প্রথম পরিচিতি পান মৌলিক গান ‘উপ’ দিয়ে। ২০২২ সালে হাতিরপুল সেশনস নামে একটি সংগীত আয়োজনে গানটি প্রকাশের পর তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে তার আরও কয়েকটি গান জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিশেষ করে কোক স্টুডিও বাংলার একটি প্রকল্পে অংশগ্রহণের পর তার পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।

গত কয়েক বছরে তিনি পাঁচ থেকে ছয়টি মৌলিক গান প্রকাশ করেছেন। তার অধিকাংশ গানই প্রেম ও সম্পর্কের বিভিন্ন জটিল অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তিনি মনে করেন, প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে থাকা অপ্রকাশিত অনুভূতি, দূরত্ব, না পাওয়ার কষ্ট এবং একতরফা ভালোবাসা মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা, যা তিনি সংগীতে তুলে ধরতে চান।

গানের সংখ্যা কম হওয়া প্রসঙ্গে অংকন কুমার জানান, তিনি বেশি গান প্রকাশের পরিবর্তে মানসম্মত কাজের ওপর গুরুত্ব দেন। তার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের সংগীত নির্মাণ, যেখানে শব্দ, সুর ও আবেগের মান সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সংগীতের বাইরে অংকন কুমার ফুটবল খেলায়ও যুক্ত। তিনি মূলত মিডফিল্ডার এবং স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন। অবসরে তিনি সাহিত্যচর্চা করতে ভালোবাসেন, বিশেষ করে উপন্যাস, কবিতা ও চিত্রকথা পড়েন। পাশাপাশি অবসর সময়ে কৌশলভিত্তিক খেলাও খেলেন এবং অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র দেখেন।

ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা অংকন কুমারের। তার পরিবারও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত, যার ফলে ছোটবেলা থেকেই তিনি সংগীতচর্চার পরিবেশে বড় হয়েছেন। বর্তমানে তিনি তার প্রথম একক অ্যালবামের কাজ করছেন, যেখানে চার থেকে পাঁচটি মৌলিক গান থাকবে। একই সঙ্গে একটি যৌথ অ্যালবামের কাজও চলছে, যেখানে আধুনিক ধারার গান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া আরও কয়েকটি সংগীত প্রকল্প তার পরিকল্পনায় রয়েছে, যা তিনি ভবিষ্যতে প্রকাশ করবেন।