ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে নিয়ে পলায়ন

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান, যিনি তিন সন্তানের জনক, একই এলাকার এক সিএনজি চালকের স্ত্রী হাসনা আক্তার রুমি (২৮)-এর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ওই সম্পর্কের জেরেই তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল সকালে হাসনা আক্তার রুমি তার ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় তিনি ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের সঙ্গে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তারা নোটারির মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একত্রে বসবাস শুরু করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী স্বামী মো. ওসমান গনি (৩৮) জানান, তিনি ২০১২ সালে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে হাসনা আক্তার রুমিকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে বর্তমানে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার সুযোগে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান তার স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং এক পর্যায়ে তাকে নিয়ে পালিয়ে যান।

ওসমান গনির আরও অভিযোগ, স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘর থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা এবং সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি স্থানীয়ভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এবং চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রথম স্ত্রীর অনুমতি গ্রহণের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় সেই বিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর একটি অংশ বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নিচে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
অভিযুক্ত ব্যক্তিমিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য (৭ নম্বর ওয়ার্ড, সুরাজপুর-মানিকপুর)
ভুক্তভোগী নারীহাসনা আক্তার রুমি (২৮)
স্বামীমো. ওসমান গনি (৩৮)
ঘটনার তারিখ২৮ এপ্রিল
অভিযোগপরকীয়া সম্পর্ক, পালিয়ে বিয়ে, অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া
বসবাসের স্থানচকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকা (ভাড়া বাসা)
দাম্পত্য অবস্থাউভয়েরই পূর্বে সন্তানসহ বিবাহিত জীবন ছিল

স্থানীয় পর্যায়ে ঘটনার প্রকৃতি ও পারিবারিক জটিলতার কারণে বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।