লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি জ্বালানি তেল পাম্পে নিজের পিকআপ ট্রাকে তেল ভরছিলেন ২৮ বছর বয়সী রাইডার থমাস। তিনি জানান, পুরো ট্যাংক পূর্ণ করতে তার খরচ হয়েছে ১৩০ ডলার, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৩০ ডলার বেশি। তার মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।
থমাস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তেলের দামে ক্ষোভ যেমন রয়েছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষোভ রয়েছে এই দাম বাড়ার কারণ নিয়ে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে কড়া মন্তব্য করে বলেন, তিনি ট্রাম্পকে নির্বোধ মনে করেন।
সংবাদে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পরে ইসরায়েল ও বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত।
প্রায় ৩৯ দিন চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়। পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা ব্যর্থ হয়। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
তবে ইরান দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসতে এখনো সম্মত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে ক্যালিফোর্নিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতি গ্যালন তেলের দাম ছিল প্রায় সাড়ে চার ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে ছয় ডলারেরও বেশি হয়েছে।
নিচের টেবিলে তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো—
| সময়কাল | প্রতি গ্যালন তেলের দাম | পরিবর্তন |
|---|---|---|
| যুদ্ধের আগে | প্রায় সাড়ে ৪ ডলার | ভিত্তি |
| বর্তমান সময় | ৬ ডলারের বেশি | উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি |
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাদ্য, পোশাকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে আসা ডেভিড চাভেজ নামের একজন ক্যামেরাপারসন বলেন, তিনি সরাসরি কাউকে দায়ী করছেন না, তবে তেল কোম্পানিগুলোর মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, ৭৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ফ্লো জানান, উচ্চ জ্বালানি দামের কারণে তাকে গাড়ি চালানো কমাতে হয়েছে এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, জীবন আগেই কঠিন ছিল, এখন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে গেছে।